যুক্তরাষ্ট্র গত ২০০ বছরে মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে বহু সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে ১৮০০ সালের শেষ দিক থেকে বিশ শতকের শুরু পর্যন্ত মধ্য আমেরিকায় পরিচালিত অভিযানগুলো ‘বানানা ওয়ারস’ নামে পরিচিত। এ অঞ্চলে মার্কিন কোম্পানির স্বার্থরক্ষায় এসব অভিযান চালানো হয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের আমলে ১৯৩৪ সালে ‘গুড নেইবার পলিসি’ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দক্ষিণ বা লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে আক্রমণ কিংবা দখলদারি না চালানো ও তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শীতল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলের নির্বাচিত বামপন্থী নেতাদের উৎখাতের লক্ষ্যে অনেকগুলো অভিযানে অর্থায়ন করে।
এসব অভিযানের প্রায় সব কয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সমন্বয়ে পরিচালনা করা হয়েছিল। সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৭ সালে।
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ভেনেজুয়েলা উপকূলের কাছে বড় পরিসরের সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ভেনেজুয়েলার নৌযান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব নৌযান মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, ভেনেজুয়েলার ভেতরে স্থল অভিযানের সম্ভাবনা তিনি একেবারে বাতিল করে দিচ্ছেন না। গত বৃহস্পতিবার তিনি দেশটিতে শিগগিরই স্থলপথে অভিযানেরও ঘোষণা দেন।
এসব নিয়ে যখন ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে চলছে, ঠিক তখন গতকাল শনিবার ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা ও এর আশপাশের আকাশপথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ বলে বিবেচনা করা উচিত।
পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করেন, ট্রাম্প আসলে ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তন করতে চান। সেটি আড়াল করার জন্য তিনি ভেনেজুয়েলাকে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করছেন।
লাতিন আমেরিকার কিছু দেশে বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো একই ধরনের কিছু অভিযানের ইতিহাস সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

আরবেঞ্জ একটি কোম্পানিকে জাতীয়করণ করতে চেয়েছিলেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রে এ আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে আরবেঞ্জের অধীন গুয়াতেমালায় আরও সমাজতান্ত্রিক নীতি গড়ে উঠবে।
অপারেশন পিবিসাকসেসের অধীন সিআইএ গুয়াতেমালার সামরিক কর্মকর্তা কার্লোস কাস্তিয়ো আরমাসের নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয়। তাঁরা আরবেঞ্জকে উৎখাত করেন। অভ্যুত্থানের পর আরমাস ক্ষমতা দখল করেন।
পরে ১৯৬০ সালে গুয়াতেমালায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। চলে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত। গৃহযুদ্ধের একদিকে ছিল সরকার ও সামরিক বাহিনী, অন্যদিকে বিভিন্ন বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

কিউবা (১৯৬০-এর দশক)-
কিউবার স্বৈরশাসক ফুলজেনসিও বাতিস্তাকে উৎখাত করে ১৯৫৯ সালে ক্ষমতায় আসেন দেশটির কমিউনিস্ট নেতা ফিদেল কাস্ত্রো। দেশটিতে এ কমিউনিস্ট বিপ্লব ওয়াশিংটন পছন্দ করেনি।
আইজেনহাওয়ারের আমলে কিউবার নির্বাসিত নাগরিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করে সিআইএ। উদ্দেশ্য, আক্রমণ চালিয়ে কাস্ত্রো সরকারকে উৎখাত করা। ১৯৬০ সালে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডিকে শপথ গ্রহণের সময় এ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানানো হয়।
এদিকে নিজেদের গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে সিআইএর প্রশিক্ষণ শিবির সম্পর্কে খবর পেয়ে যান কাস্ত্রো। তা সত্ত্বেও নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যায় সিআইএ। ১৯৬১ সালে কেনেডি ‘বে অব পিগস ইনভেশনের’ অনুমোদন দেন। কিন্তু কিউবার সামরিক বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে দেশটির নির্বাসিত নাগরিকদের দিয়ে কাস্ত্রোকে উৎখাতের সেই অভিযান ব্যর্থ হয়।

ব্রাজিল (১৯৬০-এর দশক)-
১৯৬১ সালে ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জোয়াও গুলার্ট। সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন। তিনি কিউবার মতো সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন ও মার্কিন মালিকানাধীন ইন্টারন্যাশনাল টেলিফোন অ্যান্ড টেলিগ্রাফের (আইটিটি) একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করেছিলেন।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ব্রাজিলের যুক্তরাষ্ট্রপন্থী রাজনীতিবিদদের অর্থায়ন ও বামপন্থাবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিতে শুরু করে সিআইএ। সংস্থাটির তৎপরতার কারণে গুলার্ট সরকার দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ১৯৬৪ সালে ব্রাজিলে সামরিক অভ্যুত্থান হয়। শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ স্বৈরশাসনের, যা স্থায়ী হয়েছিল ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত।
ইকুয়েডর (১৯৬০-এর দশক)-
ইকুয়েডরে ১৯২৫ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে ২৭ জন প্রেসিডেন্ট আসা-যাওয়া করেন। কিন্তু ১৯৫০-এর দশকে দেশটিতে এক বিরল স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করে। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
১৯৬০-এর দশকের শুরুতে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট হোসে ভেলাসকো ইবারা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কার্লোস হুলিও আরোসেমেনার কিউবাপন্থী নীতি নিয়ে উদ্বেগে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। ইকুয়েডরের এসব নেতা সোভিয়েত ব্লকের দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পক্ষপাতি ছিলেন।
সিআইএ ইকুয়েডরের তৎকালীন নেতাদের এ মনোভাব পছন্দ করেনি। সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে দেশটিতে বামপন্থাবিরোধী মনোভাব ছড়ানোর জন্য অর্থায়ন করেছিল।
পরবর্তী সময়ে সিআইএর একজন এজেন্ট মার্কিন বিশ্লেষক রজার মরিসকে বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত তারা (সিআইএ) ইকুয়েডরে যাঁদের ন্যূনতম প্রভাবও ছিল, তাঁদের প্রায় সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারত।’ লাতিন আমেরিকায় নিজেদের কর্মকাণ্ড মূল্যায়নে ২০০৪ সালে সিআইএর অনুমোদনে সংস্থাটির ওই এজেন্ট এ কথা বলেছিলেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আরোসেমেনা প্রথমে ইবারার বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থান ঘটান এবং আরও বেশি বামপন্থার দিকে ঝোঁকেন। পরে তিনি সুর নরম করেন। এরপর ১৯৬৩ সালে সেনাবাহিনী তাঁর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান করে। নতুন সামরিক শাসক কমিউনিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ ও কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। এসবই মূলত যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া ছিল।
বলিভিয়া (১৯৬০-৭০-এর দশক)-
বলিভিয়ার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের জন্য ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৪ সালের মধ্যে গোপনে বিপুল অর্থায়ন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এসব গোপন কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিত সিআইএ।
বলিভিয়ার যেসব নেতা মার্কিন তহবিল পেয়েছিলেন, তাঁরা ১৯৬৪ সালের নভেম্বরে দেশটির সামরিক অভ্যুত্থানকে সমর্থন করেছিলেন। অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জেনারেল রেনে বার্রিয়েন্টোস ওর্তুনো। অভ্যুত্থানে উৎখাত হয়ে দেশটির নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ভিক্টর পাজ এস্টেনসোরো নির্বাসনে চলে যেতে বাধ্য হন।
কিন্তু সফল সামরিক অভ্যুত্থানের পরও বলিভিয়ায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে দেশটির আরেকটি সরকার পরিবর্তনের দিকে নজর দেয় ওয়াশিংটন। এবার নিশানা প্রেসিডেন্ট জুয়ান জোসে টোরেস। তিনি ক্ষমতায় এসে দেশটিতে সক্রিয় একাধিক মার্কিন কোম্পানিকে জাতীয়করণ করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের জুনে বলিভিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী লা পাজে নিয়োজিত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ওয়াশিংটনকে জানিয়েছিলেন, টোরেসের বিরোধীদের সমর্থন দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে টোরেসের বিরোধিতা করার জন্য বলিভিয়ার সেনা ও রাজনৈতিক নেতাদের অর্থসহায়তা দিতে হোয়াইট হাউস গোপনে ৪ লাখ ১০ হাজার ডলার (বর্তমান মূল্যে প্রায় ৩৩ লাখ ডলার) তহবিল বরাদ্দ দেয়।
দুই মাস পর বলিভিয়ার জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা হুগো বানজার প্রেসিডেন্ট টোরেসের বিরুদ্ধে সফল অভ্যুত্থান ঘটান। অভ্যুত্থানের পরও বানজার সরকারকে অর্থায়ন করা অব্যাহত রাখে যুক্তরাষ্ট্র। বানজার সরকার ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বলিভিয়া শাসন করে। প্রায় দুই দশক পরে ১৯৯৭ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় এসেছিলেন বানজার।

চিলি (১৯৭০-এর দশক)-
চিলির বামপন্থী প্রেসিডেন্ট সালভাদর আলেন্ডকে উৎখাত করার জন্য অর্থায়ন করেছিল সিআইএ। আলেন্ড কয়েকটি তামা কোম্পানি জাতীয়করণের পরিকল্পনা করেছিলেন। এসব কোম্পানির অনেকগুলো মার্কিন মালিকানাধীন ছিল।
আলেন্ডের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমর্থন এবং বামপন্থাবিরোধী মনোভাব ছড়ানোর কাজে সিআইএর তহবিলের বড় একটি অংশ ব্যবহার করা হয়েছিল। দেশটিতে শেষ পর্যন্ত ১৯৭৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থান হয়। অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন জেনারেল অগুস্তো পিনোশে। পিনোশের নির্মম স্বৈরশাসন ১৭ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
অভ্যুত্থানের সময় গ্রেপ্তার হওয়ার আগে একে ৪৭ রাইফেল ব্যবহার করে আত্মহত্যা করেন আলেন্ড। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন নানা সন্দেহ ছিল। কয়েক দশক পর তাঁর আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
৬ দেশে অপারেশন কন্ডর (১৯৭০-এর দশক)-
ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির কারণে রিচার্ড নিক্সনের পদত্যাগের পর ১৯৭৪ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন জেরাল্ড ফোর্ড। পরের বছর লাতিন আমেরিকার ছয় দেশে ডানপন্থী সামরিক স্বৈরশাসনকে সমর্থন দিতে একটি আন্তরাষ্ট্রীয় নেটওয়ার্কের কার্যক্রম শুরু করে সিআইএ। এ নেটওয়ার্কের নাম ছিল ‘অপারেশন কন্ডর’, যা ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত সক্রিয় ছিল।
অপারেশন কন্ডরের নিশানায় থাকা দেশগুলো ছিল আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, ব্রাজিল, চিলি, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, বামপন্থী ও কমিউনিস্ট–সমর্থকদের দমন করা ছিল এ অভিযানের উদ্দেশ্য। এ জন্য এসব দেশের স্বৈরশাসকেরা একটি সাধারণ ডাটাবেজ বা তথ্যভান্ডার ব্যবহার করতেন। এর মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসনবিরোধী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের ওপর নজরদারি চালানো হতো।
এ ছয় দেশের স্বৈরশাসকেরা নিজেদের মধ্যে গোয়েন্দা ও সাধারণ তথ্য, বন্দী ও নির্যাতনের কৌশল বিনিময় করতেন। লাতিন আমেরিকার কয়েকটি সংগঠন এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগ ‘প্ল্যান কন্ডরের’ তথ্যমতে, এ অভিযানে অন্তত ৯৭ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
এল সালভাদর (১৯৮০-এর দশক)-
মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদরের সেনাবাহিনীর অভিজাত ‘অ্যাটলাকাতল ব্যাটালিয়ন’ ১৯৮১ সালের ডিসেম্বরে দেশটির এল মোজোতে গ্রামে এক ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালায়। এতে নারী–শিশুসহ প্রায় ১ হাজার মানুষ নিহত হন। ১৯৮০–৯২ সালের মধ্যে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলাকালে এ হত্যাযজ্ঞ সংগঠিত হয়েছিল।
অ্যাটলাকাতল ব্যাটালিয়নকে প্রশিক্ষণ ও সামরিক সরঞ্জাম দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। শীতল যুদ্ধনীতির বিস্তৃত অংশ হিসেবে লাতিন আমেরিকার বামপন্থী বিদ্রোহীদের দমন করতে এসব সহায়তা দেওয়া হয়। ১৯৮০–৮২ সালের মধ্যে এল সালভাদরে সামরিক সহায়তা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করেছিল ওয়াশিংটন।
গ্রেনাডা (১৯৮০-এর দশক)-
ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট দেশ গ্রেনাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এরিক গ্যারি বিদেশ সফরে থাকাকালে ১৯৭৯ সালে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিলেন মরিস বিসপ। নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করে মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী নীতি গ্রহণ করেছিলেন তিনি।
১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে গ্রেনাডায় কিউবার প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। নেতৃত্ব নিয়ে ১৯৮৩ সালের অক্টোবরে বিসপের দলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয়। এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে আকস্মিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন আর্জেন্ট ফিউরি’।
এ অভিযান চালিয়ে গ্রেনাডাতে অবস্থানকারী কিউবার নাগরিকদের গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি নিশ্চিত করা হয় যে দেশটি ওয়াশিংটনের চাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলবে।

পানামা (১৯৮০-এর দশক)-
যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮৯ সালে পানামায় অভিযান চালায়। নাম ছিল ‘অপারেশন জাস্ট কজ’। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ।
অভিযানে কত মানুষ মারা গিয়েছিলেন, তার সঠিক সংখ্যা জানা যায় না। আর যুক্তরাষ্ট্র মৃতের যে সংখ্যার কথা স্বীকার করে, তা প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম।
অভিযানকে ন্যায্যতা দিতে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, পানামার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল নোরিয়েগা মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাই তাঁকে অপসারণ করা হয়।
সূত্র: প্রথম আলো

