ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে ঘিরে তেহরানের সঙ্গে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন। ইতোমধ্যে সেই যুদ্ধজাহাজ রওনাও হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ এবং এনবিসি গতাকাল শুক্রবার তাদের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য।
প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনের সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পথে রওনা হওয়া এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার যুদ্ধজাহাজটির নাম ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন।
কাতার, জর্ডান, ইরাক, সিরিয়া— ইরানের এই চার প্রতিবেশী দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি আছে। এসব দেশের ঘাঁটিগুলোতে অবস্থান করছেন প্রায় ৩ হাজার মার্কিন সেনা। ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় এই চার দেশের ঘাঁটিতে সেনার সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে পেন্টাগন।
জীবনযাত্রার ব্যয় ও অসহনীয় মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয় ইরানে। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে দেশটির ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভ দমনে ইতোমধ্যে ইন্টারনেট-মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করেছে ইরান, সেই সঙ্গে দেশজুড়ে মোতায়েনপুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করেছে সেনাবাহিনী। জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংখাতে ইতোমধ্যে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভের শুরু থেকেই বলে আসছিলেন, জনতার বিক্ষোভ দমনে ইরান কঠোর পন্থার আশ্রয় নিলে দেশটিতে সামরিক অভিযান চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে যদিও তিনি সুর খানিকটা নরম করেছেন, তবে অভিযানের সম্ভাব্যতা এখনও বাতিল করেননি তিনি।

