Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, জুন 17, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ইউরোপ-আমেরিকায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা
    আন্তর্জাতিক

    ইউরোপ-আমেরিকায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা

    এফ. আর. ইমরানজানুয়ারি 22, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমাজমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে প্রকাশিত সম্ভাব্য গ্রিনল্যন্ড দখলের প্রতীকী ছবি/ডেইলি স্টার
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    সভ্যতার ইতিহাসে অগণিত যুদ্ধের মধ্যে দুটি যুদ্ধকেই ‘মহাযুদ্ধ’ বা ‘বিশ্বযুদ্ধ’ বলা হয়। সেই দুই বিশ্বযুদ্ধই শুরু হয়েছিল ইউরোপের মাটিতে। প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার দূরের উত্তর আমেরিকার দেশ হয়েও যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়েছিল সেসব যুদ্ধে। এবার সেই দুই মহাদেশের জনমানসে দেখা যাচ্ছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়।

    গত বছরের ৬ মে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের অনেকে মনে করছেন ‘আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা আছে’। এর দুইদিন পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপের বিজয়ের ৮০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়।

    এই ‘আসন্ন’ মহাযুদ্ধ প্রধানত রাশিয়ার কারণে হতে পারে বলেও মনে করেন জরিপে অংশগ্রহণকারীরা।

    বিষয়টি নিয়ে একটু বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। ১৯৪৫ সালের ৭ মে জার্মানির নাৎসি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পরদিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপের বিজয় হিসেবে প্রতিবছর ৮ মে ‘ভিই ডে’ বা ভিক্টরি ইন ইউরোপ ডে অর্থাৎ ইউরোপের বিজয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়।

    এমন এক আনন্দঘন উৎসবের ঠিক দুইদিন আগে সেদিনের সেই প্রতিবেদনে বলা হয়—ইউগভ জরিপে অংশ নেওয়া যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও স্পেনের ৪১ থেকে ৫৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ ঘটে যেতে পারে।

    আটলান্টিকের ওপর পারের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে এমন মনোভাব পোষণ করেন ৪৫ শতাংশ মার্কিনি।

    জরিপের উত্তরদাতাদের মধ্যে ৬৮ থেকে ৭৬ শতাংশ মনে করেন—তাদের আশঙ্কা যেকোনো নতুন সংঘাতে পরমাণু বোমা ব্যবহার করা হতে পারে। এ ছাড়াও, ৫৭ থেকে ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন—তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাঁধলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তুলনায় বেশি প্রাণঘাতী হবে।

    সেই ৫ দেশের উত্তরদাতাদের বেশিরভাগ বলেন, এ ধরনের যুদ্ধ বাঁধলে তাদের দেশ সেই যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে পারে। ইতালির ৬৬ ও যুক্তরাজ্যের ৮৯ শতাংশ উত্তরদাতার মত এমনই।

    অন্যদিকে, ইতালির ১৬ ও ফ্রান্সের ৪৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন—তাদের নিজ নিজ দেশের সশস্ত্র বাহিনী তাদেরকে রক্ষা করতে পারবে। বিপরীতে, ৭১ শতাংশ মার্কিনি তাদের সেনাবাহিনীর ওপর আস্থা রেখেছেন।

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর ৭২ থেকে ৮২ শতাংশ নাগরিকের আশঙ্কা আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ বাঁধলে তা রাশিয়ার কারণে বাঁধতে পারে।

    তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ
    ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসাকে অভিযান চালিয়ে মার্কিন সেনারা সেই দেশের রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণ করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। ছবি: রয়টার্স

    তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়?

    তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা সংক্রান্ত ইউগভ জরিপটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০২৫ সালের ৬ মে। গত ৮ মাসে আটলান্টিক দিয়ে অনেক পানি বয়ে গেছে। মহাসাগরটির দুই তীরেই বদলে গেছে অনেককিছু। এখন আক্ষরিক অর্থেই আটলান্টিকের উভয়পারেই চলছে ‘যুদ্ধ’ প্রস্তুতি।

    এ প্রসঙ্গে, ডেনমার্কের স্বশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডে সম্ভাব্য মার্কিন আগ্রাসন রুখে দেওয়ার লক্ষ্যে ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্যদের সামরিক মহড়ার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।

    তবে ২০২২ সালে পরাশক্তি রাশিয়া অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিবেশী ইউক্রেনে আগ্রাসন চালালে ইউরোপের মাটিতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কার কথা গুরুত্বের সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।

    এর পরের বছর মধ্যপ্রাচ্যে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হলে এবং ২০২৪ সালে সেই যুদ্ধের পরিধি প্রায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়লে এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব সারা পৃথিবীতে অনুভূত হলে আবারও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা করা হয়।

    ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে ‘শুল্ক যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন। তখন অনেক বিশ্লেষক আশা করেছিলেন—ট্রাম্প হয়ত ‘বাণিজ্য সংঘাতেই’ সীমাবদ্ধ থাকবেন।

    কিন্তু, সে বছর জুনে ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন সেনারা দীর্ঘদিনের শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত ইরানে হামলা চালালে আবারও মহাযুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দেয়।

    তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ
    স্যাটেলাইট থেকে তোলা ইউক্রেনে রুশ সেনা বহরের দৃশ্য। ছবি: রয়টার্স

    বছর শেষ না হতেই সংবাদ আসে—ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশে পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম হাইপারসনিক ‘অরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে রাশিয়া।

    গত বছর ৩০ ডিসেম্বর রুশ বার্তা সংস্থা তাসের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়—যুদ্ধ বাঁধলে রাশিয়া যাতে ইউরোপজুড়ে শত্রু পক্ষের লক্ষ্যবস্তুগুলোয় তৎক্ষণাৎ হামলা চালাতে পারে তাই এমন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হলো।

    সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে—এসব ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের ১০ গুণ বেশি দ্রুতগতিতে উড়ে যায় বলে শত্রুপক্ষ সেগুলো ঠেকাতে পারবে না বলে মনে করেন রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন।

    তবে এমন ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করার সংবাদে শঙ্কিত হয়েছিলেন বিশ্বের শান্তিবাদী মানুষ। সেই সংবাদে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল ইউরোপ।

    শুধু তাই নয়, চলতি বছরের শুরুতে সব আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দক্ষিণ আমেরিকার খনিজসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে সে দেশের রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনার সংবাদ বিশ্ববাসীর কাছে নিশ্চিত করেন, মূলত তখনই আগাগোড়া পাল্টে যায় বিশ্বব্যবস্থা। নতুন যুগে প্রবেশ করে দুনিয়া।

    তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ
    গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা। ছবি: রয়টার্স

    এই নতুন যুগে পড়ার বিষয়টি আরও নিশ্চিত হয়—প্রয়োজনে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ডেনমার্কের স্বশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখল করা হবে—ট্রাম্পের এমন ঘোষণায়।

    এরপর ইউরোপে শুরু হয় রণসাজের রব। পশ্চিম গোলার্ধের মহাক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক জোট ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্যরা গ্রিনল্যান্ড রক্ষায় একতাবদ্ধ হোন।

    ক্ষিপ্ত ট্রাম্প সেইসব ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এতে কাজ না হলে আরও শুল্ক চাপানোর কথা বলে রেখেছেন তিনি।

    গত ২০ জানুয়ারি সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়—ডেনমার্কের আইনপ্রণেতা রাসমুস জারলভ সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন যে ট্রাম্প যদি মার্কিন সেনাদের গ্রিনল্যান্ড দখলের নির্দেশ দেন তাহলে ‘যুদ্ধ বেঁধে যাবে। তখন আমরা একে অন্যের বিরুদ্ধে লড়াই করবো।’

    অর্থাৎ, দুই মিত্র দেশ ন্যাটো সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক একে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে।

    গতকাল ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্কের স্বশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে ইউরোপের দেশগুলোর ওপর শুল্ক চাপানোর বিষয় থেকে পিছু হটলেও মিত্ররা বিষয়টি ‘ভুলে’ যাবে না।

    ২০২৫ সালের ১০ মে দ্য গার্ডিয়ানের এক সংবাদের শিরোনাম করা হয়—’আমরা কি আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি তা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে?’ দুনিয়াজুড়ে যুদ্ধের দামামা, অস্ত্রের ঝনঝনানি আর আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের প্রতিযোগিতার কথাও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়।

    তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ
    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানে ছোড়া হয় পরমাণু বোমা। ছবি: রয়টার্স

    তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা শোনা গেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখেও। গত বছর ২১ সেপ্টেম্বর ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়—রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প বলেছেন যে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে’।

    রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্প হতাশ হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    অর্থাৎ, মহাক্ষমতাধর ট্রাম্প যখন নিজেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা বলেন তখন কি ধরে নিতে হবে যে এমন কিছু সত্যিই ঘটতে যাচ্ছে। বিশ্বযুদ্ধ বাঁধলে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ শহর ও যুক্তরাজ্যের ৪ শহর কিভাবে আক্রান্ত হতে পারে তা নিয়েও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

    সবকিছু মিলিয়ে এ কথা বলা যায় যে, বিশ্বব্যাপী মানুষ আরেকটি মহাযুদ্ধের আশঙ্কা করছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনজরিপের ফল সেই ভয় যেন বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    গত ১৩ জানুয়ারি সংবাদ সাময়িকী দ্য উইকের মার্কিন সংস্করণে এক প্রতিবেদনের শিরোনামে প্রশ্ন রাখা হয়—’আমরা কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কাছে চলে এসেছি?

    এতে বলা হয়, ট্রাম্পের ‘আত্ম-প্রচারণা’ ও তার প্রশাসনের ‘নতুন সাম্রাজ্যবাদনীতি’ বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থাকে পাল্টে দিয়েছে। এটি চীন ও রাশিয়াকে বিপদজনক আধিপত্যবাদের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এমনকি, এটি বৈশ্বিক সংকটের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

    গত ২০ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সময়ের সুপ্রতিবেশী ও বর্তমানের ‘চক্ষুশূল’ হিসেবে বিবেচিত কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তার বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যে বিশ্বব্যবস্থা চলছে তাতে ‘ফাটল’ দেখা দিয়েছে। তার মতে, আইনভিত্তিক শাসনব্যবস্থা ‘ফিকে’ হয়ে আসছে।

    তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ
    প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত ট্যাংক। ছবি: রয়টার্স

    যেভাবে বেঁধেছিল দুই বিশ্বযুদ্ধ

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক মহারণ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই। চলেছিল প্রায় চার বছর। সেই যুদ্ধে জড়িয়েছিল ইউরোপ, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চল।

    যুদ্ধে ‘কেন্দ্রীয়-পক্ষে’ ছিল জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও তুরস্ক এবং ‘মিত্র-পক্ষে’ ছিল ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র।

    জার্মানির আত্মসমর্থনের মধ্য দিয়ে ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর শেষ হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।

    ইতিহাস বলছে—১৯১৪ সালের ২৮ জুন সকাল সোয়া ১১টায় তৎকালীন অস্ট্রো-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ ও তার স্ত্রী সোফিয়া বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোয় এক জাতীয়তাবাদী বসনিয়ান-সার্বের গুলিতে নিহত হন। সেই ঘটনাই এক মাস পর মহাযুদ্ধের রূপ নেয়।

    ব্রিটানিকার তথ্য মতে—প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সাড়ে ৮ লাখ সেনা ও ১ কোটি ৩০ লাখ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ, সেই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ২ কোটি ১৫ লাখ মানুষ।

    এর ২১ বছর পর আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ইউরোপের রাজনীতি। সেই উত্তাপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সারা দুনিয়ায়। ১৯৩৯ সালের ৩১ আগস্ট হিটলারের জার্মানি প্রতিবেশী পোল্যান্ড আক্রমণ করলে সেই বছর ৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স আক্রমণকারী দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

    বিশ্লেষকদের অনেকের ভাষ্য: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অমীমাংসিত বিষয়গুলো বিশ্ববাসীকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। এবার যুদ্ধক্ষেত্রে অক্ষশক্তি হিসেবে আসে জার্মানি, ইতালি ও জাপান। মিত্রশক্তি হিসেবে যোগ দেয়—ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।

    জার্মানির আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধও শেষ হয়।

    ব্রিটানিকার তথ্য বলছে—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ কোটি থেকে ৫ কোটি মানুষ। পৃথিবীর ইতিহাসে এই যুদ্ধকেই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক বলে গণ্য করা হচ্ছে। এই যুদ্ধেই প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষের ওপর পরমাণু বোমা ব্যবহার করা হয়। সেই হামলায় জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহর ধ্বংস হয়।

    আবার ফিরে আসা যাক দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত সেই ইউগভ জরিপের কথায়। জরিপে অংশ নেওয়া ২৫ থেকে ৪৪ শতাংশ জবাবদাতা আশঙ্কা করেছেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাঁধলে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ মারা যাবে।

    সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সত্যিই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বেঁধে গেলে অনেক অপ্রচলিত ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে। এর ফলে পৃথিবী হারাতে পারে মানববসতির বসবাসের উপযোগী পরিবেশ। এটি পরিণত হতে পারে এক মানববিহীন ‘মরা’ গ্রহে।


    বিশ্বজুড়ে মানুষ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা করছে, যা মূলত রাশিয়ার আগ্রাসন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক-রাজনৈতিক নীতির কারণে বাড়ছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের জরিপে দেখা গেছে, জনসংখ্যার বড় অংশ মনে করছে, আগামী ৫–১০ বছরে এই মহাযুদ্ধ হতে পারে, যার ক্ষেত্রে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে এবং তা অতীত দুই বিশ্বযুদ্ধের তুলনায় আরও প্রাণঘাতী হতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, নতুন যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহার মানবজাতির জন্য অভূতপূর্ব বিপদ তৈরি করতে পারে। সূত্র: ডেইলি স্টার

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    বিশ্বকাপ ২০২৬: ইরানের জন্য এটি এক অসম ময়দানের লড়াই

    জুন 16, 2026
    মতামত

    অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কি লেবার পার্টিকে নতুন ভাগ্য উপহার দিতে পারেন?

    জুন 16, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ছয় দশক পেরিয়েও কেন যুক্তরাষ্ট্রের ভরসা বি-৫২

    জুন 16, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.