রাশিয়া একসময় ভারতের সঙ্গে Su-35 যুদ্ধবিমানের লাইসেন্স উৎপাদন চুক্তি করার চেষ্টা করেছিল। ২০১০-এর দশকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর মিডিয়াম মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (MMRCA) টেন্ডারের আওতায় এই প্রস্তাব সামনে আনা হয়। রাশিয়া তখন Su-35-কে MiG-35-এর তুলনায় বেশি ব্যয়বহুল হলেও অত্যন্ত সক্ষম বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করেছিল। তবে নানা কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি।
MMRCA টেন্ডারে Su-35 ছিল ব্যতিক্রমী একটি প্রার্থী। যেখানে অন্য প্রতিযোগীদের বেশিরভাগই মাঝারি বা হালকা ওজনের যুদ্ধবিমান ছিল, সেখানে Su-35 ছিল তুলনামূলকভাবে ভারী প্ল্যাটফর্ম। অস্ত্র বহনক্ষমতা, শক্তিশালী রাডার, দীর্ঘ পাল্লা, উচ্চতর অপারেশনাল উচ্চতা এবং ত্রিমাত্রিক থ্রাস্ট ভেক্টরিং ইঞ্জিনের কারণে Su-35 কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাপিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখত। MiG-35 ব্যতীত অন্য সব প্রতিযোগীর তুলনায় এটি কম দামে দেওয়ার প্রস্তাবও দেয় রাশিয়া।

তবে Su-35-এর প্রধান দুর্বলতা ছিল এর আকার ও পরিচালন ব্যয়। বড় আকারের কারণে এর রক্ষণাবেক্ষণ ও অপারেশন খরচ মাঝারি ও হালকা যুদ্ধবিমানের তুলনায় বেশি হতো। যদিও ভারতীয় বিমান বাহিনীর বহরে আগে থেকেই ২০০টির বেশি Su-30MKI থাকায় প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে মিল থাকার সুবিধা ছিল। রাশিয়া ভারতে ১১৪টি Su-35 লাইসেন্স উৎপাদনের প্রস্তাব দেয় এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তরের আশ্বাস দেয়, যাতে Su-30MKI বহরকে Su-35 মানে উন্নীত করা সম্ভব হতো।

এই আপগ্রেডের আওতায় AL-41F-1S ইঞ্জিন, Irbis-E রাডার, আধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং R-37M ও R-77M-এর মতো আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের সম্ভাবনার কথা বলা হয়। রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ইউরি বোরিসভ তখন বলেছিলেন, Su-35 ও Su-30SM-এর মধ্যে প্রযুক্তিগত মানসম্মতকরণ খরচ কমাবে এবং অস্ত্র ব্যবস্থার একীকরণ ঘটাবে।
এরপরও ভারত শেষ পর্যন্ত MMRCA টেন্ডার বাতিল করে। একই সময়ে ২০২০ সালে Su-30MKI ও MiG-29 যুদ্ধবিমানের অর্ডার বাড়ানো হয়। এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে Su-57 পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সম্ভাবনাকেও উন্মুক্ত করে।

ভারতীয় বিমান বাহিনীর দৃষ্টিতে Su-35-এর আরেকটি সীমাবদ্ধতা ছিল প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সীমা। ২০০২ সালে পরিষেবায় আসার সময় Su-30MKI অত্যাধুনিক হলেও, Su-35 ও পুরোনো Su-30MKI-এর মধ্যে প্রযুক্তিগত ব্যবধান খুব বড় ছিল না। MMRCA টেন্ডারে Su-35 ছিল একমাত্র যুদ্ধবিমান যার প্রধান AESA রাডার ছিল না, যদিও এতে ডানার গোড়ায় দুটি L-ব্যান্ড AESA রাডার যুক্ত ছিল। প্রশ্ন ছিল, Su-30MKI-এর উন্নত সংস্করণের কাছাকাছি সক্ষমতার একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করা আদৌ যৌক্তিক কি না।

এই প্রেক্ষাপটে Su-57-এর প্রতি ভারতের আগ্রহ বাড়তে থাকে। যদিও Su-57-এর ক্রয় ব্যয় বেশি, তবুও পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভজনক বলে বিবেচিত হচ্ছে। রাশিয়ার ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশন ভারতকে Su-57-এর সোর্স কোডে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে, যা স্থানীয় এভিওনিক্স সংযোজনসহ অভূতপূর্ব মাত্রার কাস্টমাইজেশনের সুযোগ তৈরি করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, Su-35-এর প্রযুক্তি স্থানান্তর ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে তুলনামূলকভাবে সীমিত প্রভাব ফেলত। বিপরীতে, Su-57-এর প্রযুক্তি দেশীয় AMCA প্রকল্পসহ ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এসব কারণেই রাশিয়ার Su-35 লাইসেন্স উৎপাদনের প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি।
সূত্র: মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন

