গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি বলে জানিয়েছে ভারত সরকার। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে বিভিন্ন আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। ভারতের লোকসভা-তে উত্থাপিত অ-তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত মালা রায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা শুরু হয়েছে কি না। তিনি আরও জানতে চান, কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছে কি না।
শুক্রবার প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং এর মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে। তবে নবায়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো কোনো আলোচনা শুরু হয়নি।
তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছ থেকে সুপেয় পানি ও শিল্পকারখানায় ব্যবহারের পানির চাহিদা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সরকারি অবস্থান নির্ধারণে এসব তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
কীর্তি বর্ধন সিং আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুমোদিত প্রতিনিধিদল ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর, ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ, ২০২৪ সালের ৩১ মে এবং ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে অংশ নেয়। এসব আলোচনার ভিত্তিতে একটি যৌথ মত গড়ে তোলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। গঙ্গা ছাড়া অন্য কোনো নদীর পানিবণ্টন চুক্তি হয়নি। তিস্তা নদী-র পানিবণ্টন প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।

