যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের মধ্যাঞ্চলীয় করদোফান অঞ্চলে আবারও রক্ত ঝরল বেসামরিক মানুষের। একটি ব্যস্ত বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠন ইমারজেন্সি লয়ার্স সোমবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানায়। সংগঠনটি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সহিংসতা পর্যবেক্ষণ করে থাকে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর করদোফান রাজ্যের সোদারি শহরের আল-সাফিয়া বাজারে এই হামলা চালানো হয়।
রোববারের (১৫ ফেব্রুয়ারি) এই হামলার সময় বাজারে স্বাভাবিক দিনের মতোই ভিড় ছিল। নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ কেনাবেচায় ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক সেই সময়ই ড্রোন থেকে হামলা চালানো হয়।
ইমারজেন্সি লয়ার্স বলেছে, এই হামলা ‘মানবিক বিপর্যয়কে আরও ভয়াবহ আকার দিয়েছে’। সংগঠনটির আশঙ্কা, মৃত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বারবার ড্রোন ব্যবহার বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবহেলার প্রমাণ।
তাদের মতে, এমন হামলা শুধু প্রাণহানিই বাড়াচ্ছে না, বরং পুরো প্রদেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে হুমকির মুখে ফেলছে। তারা সংঘাতের উভয় পক্ষের প্রতি অবিলম্বে ড্রোন হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
করদোফান অঞ্চল বর্তমানে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলমান তিন বছরব্যাপী যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংঘর্ষক্ষেত্র।
সোদারি শহরটি মরুভূমির বাণিজ্যপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে অবস্থিত। এটি উত্তর করদোফানের রাজধানী এল-ওবেইদের প্রায় ২৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। এল-ওবেইদ শহরটি কয়েক মাস ধরে আরএসএফ ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে।
এই অঞ্চল কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের পূর্ব-পশ্চিম করিডর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। এই করিডর পশ্চিমের আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত দারফুর অঞ্চল থেকে এল-ওবেইদ হয়ে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন রাজধানী খারতুম এবং দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।
সাম্প্রতিক সময়ে করদোফান অঞ্চলে প্রাণঘাতী ড্রোন হামলার সংখ্যা বেড়েছে। যুদ্ধের নতুন কৌশল হিসেবে ড্রোনের ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বাজার, আবাসিক এলাকা কিংবা জনবহুল স্থানে হামলার ফলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার সতর্ক করলেও সংঘর্ষ থামার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
তিন বছর ধরে চলমান এই যুদ্ধে সুদানের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। খাদ্য সংকট, বাস্তুচ্যুতি, চিকিৎসা সেবার ঘাটতি—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
সোদারির এই সাম্প্রতিক হামলা সেই দীর্ঘ সংকটেরই আরেকটি নির্মম উদাহরণ।

