নিজেদের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে চলমান বৈঠকের মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সোমবার থেকে এ মহড়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল। সূত্র: এএফপি
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য সামরিক ও নিরাপত্তাজনিত হুমকির প্রেক্ষাপটে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। কতদিন এটি চলবে সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মহড়া চলাকালে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ। সমুদ্রপথে প্রতিবছর যে পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয় তার প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল এবং এক-পঞ্চমাংশ এলএনজি এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়।
আইআরজিসির প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপৌর মহড়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করাই এ মহড়ার মূল লক্ষ্য।
পূর্ব পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত আবু মুসা দ্বীপ ও এর আশপাশের জলসীমায় মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। সম্প্রতি দ্বীপটিতে সামরিক সক্ষমতা জোরদার করেছে ইরান। আইআরজিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে জানিয়েছেন, সেখানে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে যা সর্বোচ্চ এক হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প ঘিরে প্রায় দুই দশক ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সময় এ উত্তেজনা আরও বাড়ে। ২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পায়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে পড়ে। সে সময় তেহরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ পরিচালনা করে মার্কিন বাহিনী। এরপর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি।
গত ডিসেম্বরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা আবার বাড়ে। বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক অভিযানের হুমকি দেন। জানুয়ারির মাঝামাঝি বিক্ষোভ শান্ত হলে সেই হুমকি বাস্তবায়িত হয়নি।
এরই মধ্যে জানুয়ারির মাঝামাঝি আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অংশে নিজেদের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বিমানবাহী রণতরী ও শতাধিক জাহাজ টহল দিচ্ছে।
এদিকে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ওমানের রাজধানী মাস্কাট-এ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক শুরু হয়েছে। বর্তমানে সেই আলোচনার দ্বিতীয় দফা চলছে।

