রাশিয়ার কট্টর সমালোচক অ্যালেক্সেই নাভালনিকে বিষাক্ত ডার্ট ফ্রগের বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে বলে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় দেশগুলো দাবি করলেও ক্রেমলিন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা তাসে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, পশ্চিমা দেশের এই অভিযোগকে তারা ‘ইনফরমেশন ক্যাম্পেইন বা প্রচারণা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। সূত্র: বিবিসি
নাভালনি দুই বছর আগে সাইবেরিয়ার একটি কারাগারে বন্দি থাকার সময় মারা যান। রাশিয়ার দাবি, তার মৃত্যু হৃদরোগে হঠাৎ ঘটে। কিন্তু যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের তদন্তে তার শরীরে এপিবাটিডিন নামের মারাত্মক বিষ পাওয়া গেছে, যা ডার্ট ফ্রগ থেকে প্রাপ্ত। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বন্দি অবস্থায় এ বিষ প্রয়োগের সক্ষমতা ও সুযোগ কেবল রাশিয়ার সরকারেরই ছিল।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ডার্ট ফ্রগ দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার বনাঞ্চলে পাওয়া যায়। এদের ত্বকে থাকা প্রাকৃতিক বিষ অত্যন্ত শক্তিশালী; নাভালনির শরীরে পাওয়া এপিবাটিডিন ‘মরফিনের চেয়ে দুইশ’ গুণ বেশি শক্তিশালী’ বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্য, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাইবেরিয়ার কারাগারে বন্দি অবস্থায় নাভালনির ওপর বিষ প্রয়োগের উদ্দেশ্য, সুযোগ ও সক্ষমতা কেবল রাশিয়ার সরকারেরই ছিল। ডার্ট ফ্রগ বা তার বিষ রাশিয়ায় প্রাকৃতিকভাবেও পাওয়া যায় না।
নাভালনি দীর্ঘকাল পুতিনের রাজনৈতিক সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি সরকারের দুর্নীতি প্রকাশ ও রাজনৈতিক বিরোধিতা করার জন্য বহুবার জেলে গেছেন। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। ২০২০ সালে বিষপ্রয়োগে হত্যা চেষ্টা হলেও তিনি বেঁচে যান এবং জার্মানিতে চিকিৎসা নেন। ২০২১ সালে মস্কো ফেরার পর তাকে পুনরায় গ্রেফতার করে রাশিয়া।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নাভালনি ‘সত্য প্রকাশে দৃঢ় সংকল্পী ছিলেন’ এবং তার সাহস ভবিষ্যতেও মানুষের কাছে স্মরণীয় থাকবে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাভালনিকে ‘স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাশিয়ার পক্ষে লড়াইকারী’ হিসেবে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

