পাকিস্তান–এর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য খাইবার পাখতুনখোয়ার বাজাউর জেলায় একটি সেনা-পুলিশ যৌথ নিরাপত্তা চৌকিতে গাড়িবোমা হামলায় ১১ জন নিরাপত্তাকর্মীসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। সূত্র: ডন
দেশটির সেনাবাহিনীর আন্তঃবিভাগ সংযোগ দপ্তর আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার বাজাউরে এই হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিরাপত্তা চৌকির সীমানা প্রাচীরে আঘাত করার সময় বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১১ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চৌকিটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হওয়ায় বিস্ফোরণে আশপাশের ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলায় এক কিশোরী নিহত হয়েছেন এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
হামলার পর পালানোর সময় নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে ‘ফিৎনা আল খারিজি’ নামে উল্লেখিত গোষ্ঠীর ১২ জন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তানকে ‘ফিৎনা আল খারিজি’ নামে সম্বোধন করে। এই গোষ্ঠীর প্রধান লক্ষ্য খাইবার পাখতুনখোয়ায় তালেবান আদলে শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
উল্লেখ্য, খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান রাজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সন্ত্রাসী হামলার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া দীর্ঘদিন ধরেই তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তানের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে বেলুচিস্তানে সক্রিয় রয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি।
২০২১ সালের পর থেকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা বাড়তে শুরু করে। ২০২৪ সালকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে সহিংস বছর হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ওই বছরে দেশটিতে ৪৪টি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে বিবেচিত।

