ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতেই আদায় করা হয়েছে প্রথম তারাবি নামাজ।
রমজানের প্রথম তারাবিতে অংশ নিতে হাজারো ফিলিস্তিনি জড়ো হন জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে। ধর্মীয় আবেগ, আধ্যাত্মিকতা ও দীর্ঘ সংগ্রামের বাস্তবতার মাঝেই তারা শুরু করেন সিয়ামের মাস।
তবে এবারের রমজানও এসেছে কঠোর বিধিনিষেধের আবহে। বিভিন্ন অজুহাতে তরুণ ফিলিস্তিনিদের আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
তারাবির সময় পুরো মসজিদ চত্বর ঘিরে রাখে ইসরায়েলি পুলিশ। প্রার্থনালয় এবং খোলা প্রাঙ্গণগুলো পূর্ণ থাকলেও কড়া নিরাপত্তা উপস্থিতি স্পষ্ট ছিল। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নামাজের সময়ও পুলিশ সদস্যরা প্রার্থীদের মধ্যে অবস্থান করছে।
আল-আকসা মসজিদের খতিব শেখ ইউসুফ আবু স্নেইনে প্রথম তারাবির নামাজ পরিচালনা করেন।
এর আগে জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনি অঞ্চলের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ মুহাম্মদ হুসাইন ঘোষণা করেন, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রমজানের প্রথম দিন। তিনি জানান, ইসলামী বিধি অনুযায়ী রমজানের চাঁদ দেখা গেছে।
তিনি নিশ্চিত করেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ হিজরি ১৪৪৭ সালের পবিত্র রমজানের সূচনা।
ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছে, রমজান শুরুর আগেই পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বিধিনিষেধ আরও কঠোর করা হয়েছে। এর ফলে উপাসনাস্থলে প্রবেশে প্রভাব পড়েছে।
জেরুজালেম গভর্নরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে আল-আকসায় প্রবেশে ২৫০-এর বেশি ফিলিস্তিনির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
এর আগে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে আল-আকসার ইমাম শেখ মুহাম্মদ আল-আব্বাসিকে আটক করে ইসরায়েলি পুলিশ। পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হলেও এক সপ্তাহের জন্য মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর ইসরায়েল গাজার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে।
মার্কিন সমর্থনে গাজায় দুই বছরের যুদ্ধে ৭২,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৭১,০০০ আহত হয়েছেন—যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
গাজাবাসীর প্রায় ৯০ শতাংশের বসবাসের অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। যদিও ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবুও বিভিন্ন অংশে বিমান হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে আল-আকসায় প্রথম তারাবি শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং তা হয়ে উঠেছে প্রতিরোধ, ধৈর্য এবং বিশ্বাসের প্রতীক।
কঠোর নজরদারি ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও হাজারো মানুষের উপস্থিতি ফিলিস্তিনিদের দৃঢ় অবস্থানেরই ইঙ্গিত দেয়।

