মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’ বা শান্তি পরিষদে যোগ দিচ্ছে না ভ্যাটিকান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভ্যাটিকানের প্রধান কূটনীতিক কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, যেকোনো বৈশ্বিক সংকট সমাধানে জাতিসংঘকেই প্রধান ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমান পোপ লিও ইতিহাসের প্রথম মার্কিন পোপ হওয়া সত্ত্বেও তিনি ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। গত জানুয়ারি মাসে তাকে এই শান্তি পরিষদে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
মূলত গত অক্টোবর মাসে গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ট্রাম্প এই বিশেষ বোর্ড গঠনের পরিকল্পনা করেন। পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, তার সভাপতিত্বে এই বোর্ডের পরিধি আরও বাড়ানো হবে। গাজার অন্তর্বর্তীকালীন শাসনব্যবস্থা তদারকি ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সংঘাত নিরসনে এই বোর্ড কাজ করবে বলে তিনি জানান। আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে এই বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সভার প্রধান আলোচনার বিষয় হবে গাজার পুনর্গঠন কাজ।

পবিত্র ভ্যাটিকান সিটি বা হোলি সি কেন এই উদ্যোগে শামিল হচ্ছে না, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন কার্ডিনাল পারোলিন। তিনি বলেন, ‘বোর্ড অফ পিস’-এর গঠন ও প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই ভ্যাটিকান এতে অংশ নেবে না। কারণ অন্যান্য সাধারণ রাষ্ট্রের তুলনায় ভ্যাটিকানের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আলাদা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘকে সবার আগে দায়িত্ব নিতে হবে। এটি ভ্যাটিকানের একটি মৌলিক উদ্বেগের জায়গা এবং এই বিষয়ে তারা সব সময় গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
এদিকে ভিনদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় তদারকির জন্য ট্রাম্পের অধীনে এমন একটি বোর্ড গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। তারা এই উদ্যোগকে ‘ঔপনিবেশিক কাঠামো’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। গত মাসে এই বোর্ড গঠন করা হলেও এতে কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি রাখা হয়নি। ফলে শুরু থেকেই এই উদ্যোগ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।
ট্রাম্পের এই আমন্ত্রণের বিপরীতে বিভিন্ন দেশ বেশ সাবধানী প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের বোর্ড গঠন করার ফলে জাতিসংঘের কার্যকারিতা ও সম্মান নষ্ট হতে পারে। ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্যের কিছু বন্ধু রাষ্ট্র এই উদ্যোগে যোগ দিলেও পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো এখন পর্যন্ত নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছে।
অন্যদিকে গত অক্টোবর থেকে গাজায় যে যুদ্ধবিরতি চলছে, তা বারবার ভেঙে পড়ছে। এই অস্থির সময়ের মধ্যে কয়েকশ ফিলিস্তিনি এবং চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

