মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ এক দশকের সামরিক উপস্থিতির পর সিরিয়া থেকে নিজেদের সব সেনা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেগুলো স্থাপন করা হয়েছিল প্রায় এক যুগ আগে—ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর উত্থানের সময়।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সময় সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলাকালীন ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তৃত অঞ্চল দখল করে নিজেদের ঘোষিত ‘খিলাফত’ প্রতিষ্ঠা করে।
এই হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় সেনা মোতায়েন করে। ২০১৪ সালে আইএসের উত্থানের পর প্রায় ২ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানো হয়। বর্তমানে বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে প্রায় ১ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন।
এখন সেই সেনাদের ধাপে ধাপে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–কে বলেন, আইএস বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি ছিল এবং এখনো সম্ভাব্য হুমকি রয়ে গেছে। তবে পরিস্থিতি আগের মতো নেই।
তার ভাষায়, “আইএসকে নির্মূল করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যে আইএসের যেকোনো হুমকির জবাব দিতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত। যখন আইএস শক্তিশালী ছিল, তখন সিরীয় সরকারকে সহায়তা করতে আমরা সেনা পাঠিয়েছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, এখন সিরিয়ায় একটি স্থিতিশীল সরকার রয়েছে এবং আইএসের শক্তিও আগের মতো নেই। সেই প্রেক্ষাপটে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি সেনা দলকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট একটি ঘাঁটি সিরিয়ার সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। সিরিয়ায় দীর্ঘদিনের উপস্থিতি ছিল আইএসবিরোধী লড়াইয়ের অংশ। এখন সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
তবে আইএস পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি—এমন সতর্কবার্তাও রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

