পেরুর রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন নয়। সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বশেষ আটজন প্রেসিডেন্টের মধ্যে চারজনকে অভিশংসনের মুখে পড়তে হয়েছে, আর দু’জন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন। শেষ পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন প্রেসিডেন্ট ছিলেন ওলান্টা হুমালা, যিনি ২০১৬ সালে দায়িত্ব শেষ করেছিলেন।
নতুন অধ্যায় শুরু হলো যখন পেরুর কংগ্রেস ডানপন্থী নেতা হোসে জেরি অপসারণের পর একদিনের মধ্যে সাবেক বিচারপতি ও বামপন্থী আইনপ্রণেতা হোসে মারিয়া বলকাজারকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়। বলকাজারের দায়িত্বকাল খুবই সংক্ষিপ্ত, মাত্র ৫৩ দিন। এরপর দেশ নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেবে।
নির্বাচন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পান, তবে জুনে রান-অফ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট স্বাধীনতা দিবসের সময়, জুলাইয়ের শেষ দিকে শপথ নেবেন। এই প্রক্রিয়ায় বলকাজারের অন্তর্বর্তী দায়িত্ব শেষ হবে।
বলকাজারের ক্ষমতা গ্রহণও ছিল নাটকীয়। প্রথম দফার ভোটে তিনি ৪৬ ভোট এবং মধ্য-ডানপন্থী আইনজীবী মারিয়া দেল কারমেন আলভা ৪৩ ভোট পান, তবে প্রয়োজনীয় ৫৯ ভোট পূরণ করতে পারেননি। দ্বিতীয় দফার ভোট বয়কট করে বামপন্থী দল ‘টুগেদার ফর পেরু’। শেষ পর্যন্ত ১১৩ ভোটের মধ্যে ৬০ ভোট পেয়ে বলকাজার নির্বাচিত হন।
এর আগে ৩৯ বছর বয়সী হোসে জেরি পেরুর সবচেয়ে কম বয়সী প্রেসিডেন্টদের একজন ছিলেন। তবে একের পর এক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে তিনি অভিশংসনের মুখোমুখি হন। তার বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণ, রাতের বেলায় সরকারি দপ্তরে অননুমোদিত বৈঠক এবং চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনথিভুক্ত সাক্ষাৎসহ নানা অভিযোগ তদন্তাধীন ছিল।
বিশেষ করে চীনা ব্যবসায়ী ঝিহুয়া ইয়াং ও জিয়াওডং জিয়ু সঙ্গে জেরির বৈঠকের ভিডিও ফাঁস হলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই ঘটনা সংবাদমাধ্যমে ‘চিফাগেট’ নামে পরিচিতি পায়।
বলকাজারের পূর্বসূরি দিনা বলুয়ার্তে দুর্নীতি ও বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে গত অক্টোবরে অভিশংসিত হন। তারও আগে পেদ্রো কাস্তিলোর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টা চলেছিল, যার জন্য তিনি বর্তমানে ১১ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
পেরুর ধারাবাহিক রাজনৈতিক অস্থিরতা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর সতর্ক করেছে, পেরুর চানকাই বন্দরে চীনের বিনিয়োগ দেশটির সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করতে পারে।

