ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় কোনো পুনর্গঠন কাজ শুরু হবে না—এমন কড়া অবস্থান জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এক সামরিক অনুষ্ঠানে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।
একই দিনে ওয়াশিংটনে ‘শান্তি পর্ষদ’-এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি ও পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে দুই বছরব্যাপী যুদ্ধ বন্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর এই বোর্ড গঠন করা হয়। প্রথম বৈঠকে প্রায় দুই ডজন বিশ্বনেতা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অংশ নেন।
নেতানিয়াহু তার ভাষণে বলেন, “আমরা আমাদের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত হয়েছি—গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত সেখানে কোনো পুনর্গঠন হবে না।” তার এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয়, ইসরাইল পুনর্গঠনকে কৌশলগত চাপ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।
ওয়াশিংটনের বৈঠকে গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ (আইএসএফ) কীভাবে গঠন ও মোতায়েন করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। তবে সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত প্রশ্নটি হলো হামাসের ভবিষ্যৎ।
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ইসরাইলের দীর্ঘদিনের প্রধান দাবি। যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও এটি। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে এবং হামাসের ওপর অস্ত্র ত্যাগের চাপ বাড়ছে।
ইসরাইল ইতোমধ্যে কঠোর কিছু বিধিনিষেধের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে হামাসের কাছ থেকে ব্যক্তিগত ছোট আগ্নেয়াস্ত্র পর্যন্ত জব্দ করার বিষয়ও রয়েছে। অর্থাৎ শুধু ভারী অস্ত্র নয়, ছোট অস্ত্রও নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার জন্য একটি ফিলিস্তিনি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নে তারা কীভাবে ভূমিকা রাখবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
১৫ সদস্যের ‘গাজা প্রশাসন জাতীয় কমিটি’ (এনসিএজি) ‘শান্তি পর্ষদ’-এর তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। এই কমিটির প্রধান আলী শাআত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় পুনর্গঠন শুরু করতে হলে নিরাপত্তা, প্রশাসন ও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রশ্ন একসঙ্গে সমাধান করতে হবে। কিন্তু হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে ঐকমত্য না এলে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে।
যুদ্ধবিরতির পর গাজাবাসী পুনর্গঠনের অপেক্ষায় থাকলেও রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। একদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পুনর্গঠন শুরু করতে চায়, অন্যদিকে ইসরাইল নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কঠোর শর্ত দিচ্ছে।
হামাস নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই এখন নির্ধারণ করবে—গাজায় পুনর্গঠনের কাজ কবে শুরু হবে, নাকি তা আরও বিলম্বিত হবে।

