গত ২ এপ্রিল বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ইন্দোনেশিয়ার ওপর শুল্ক ছিল ৩২ শতাংশ। নতুন চুক্তির ফলে তা কমে ১৯ শতাংশে নামছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দোনেশিয়া—দুই দেশই জানিয়েছে, তারা একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। হোয়াইট হাউস গত বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করে।
চুক্তির আওতায় ইন্দোনেশিয়া ৯৯ শতাংশের বেশি মার্কিন পণ্যের আমদানিতে বাণিজ্যিক বাধা কমাবে। একই সঙ্গে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মার্কিন পণ্য কেনার ব্যবস্থা করবে দেশটি।
ওয়াশিংটন জানায়, ইন্দোনেশিয়ার কিছু পণ্যে পাল্টা শুল্কে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট তৈরি পোশাক ও বস্ত্র রয়েছে। এসব পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করতে হবে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রেয়ার বলেন, এই চুক্তি বাণিজ্যিক বাধা দূর করবে। এতে মার্কিন জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে।
ওয়াশিংটন সফরে থাকা ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো–এর উপস্থিতিতে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। তিনি গাজা পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠকে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যান।
ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতিবিষয়ক সমন্বয়মন্ত্রী এয়ারলাঙ্গা হার্ততো ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের বলেন, চুক্তিটি দুই দেশের জন্যই লাভজনক। এতে ইন্দোনেশিয়ায় বিনিয়োগ বাড়বে। তিনি জানান, ইন্দোনেশিয়ার শুল্কসংক্রান্ত প্রস্তাবের প্রায় ৯০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, চুক্তির লক্ষ্য পারস্পরিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা। সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা। পাশাপাশি একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো।
চুক্তির অংশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া ১ হাজার ৭০০টির বেশি পণ্যে শুল্কছাড় দেবে। এর মধ্যে কফি, মসলা, চকলেট, প্রাকৃতিক রাবার ও দেশটির প্রধান রপ্তানি পণ্য পাম অয়েল রয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধার বিনিময়ে ইন্দোনেশিয়া মার্কিন পণ্যের জন্য বাজার আরও উন্মুক্ত করবে। গাড়ির নিরাপত্তা ও নির্গমন মানে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড গ্রহণ করা হবে। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধেও একই মান অনুসরণ করবে দেশটি। কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, সামুদ্রিক খাবার, প্রযুক্তি ও গাড়িসংক্রান্ত মার্কিন পণ্যের ওপর থাকা বাণিজ্যিক বাধা তুলে নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা, সয়াবিন, গরুর মাংস, বোয়িং উড়োজাহাজ ও জ্বালানি কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চুক্তির আওতায় দেশটি নিজের বিরল খনিজ অবকাঠামো উন্নয়নে মার্কিন কোম্পানিকে সহায়তা করবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ আরও বিস্তৃত হবে।
এয়ারলাঙ্গা হার্ততো জানান, চুক্তিটি ৯০ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে। তবে দুই দেশ চাইলে ভবিষ্যতে শর্ত পরিবর্তন করতে পারবে।
এর আগে গত বুধবার ইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো খনি, প্রযুক্তি ও টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতে ৩৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্ব চুক্তি সই করে। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেন, এসব সমঝোতাও শুল্ক চুক্তির অংশ। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমাতে সহায়ক হবে।

