লেবাননের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের একাধিক হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের সর্বশেষ ঘটনা এটি।
লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) শুক্রবার জানায়, পূর্বাঞ্চলের বেকা উপত্যকায় বিমান হামলায় প্রথমে অন্তত ছয়জন নিহত এবং ২৫ জনের বেশি আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে এনএনএ জানায়, বেকা গভর্নরেটের রিয়াক শহরের একটি ভবনে হামলার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনের বেশি হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। হামলার স্থানে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা বালবেক এলাকায় হিজবুল্লাহর একটি কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের মতে, ওই স্থান থেকে সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।
হিজবুল্লাহর একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সংগঠনটির একজন সামরিক নেতা রয়েছেন। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে এখনো ভিন্নমত রয়েছে।
শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননের সাইদা শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত দেশটির বৃহত্তম ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির আইন এল-হিলওয়েতেও হামলা চালানো হয়। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন।
এনএনএ জানায়, একটি ইসরায়েলি ড্রোন শিবিরের হিত্তিন এলাকায় হামলা চালায়। এতে একটি ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির বারবার লঙ্ঘনের জবাবে তারা একটি হামাস কমান্ড সেন্টারে হামলা করেছে, যেখান থেকে সশস্ত্র কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।
হামলার নিন্দা জানিয়ে হামাস বলেছে, এতে বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়েছেন এবং লক্ষ্যবস্তুতে কোনো সামরিক ব্যক্তি ছিলেন না। তাদের দাবি, শরণার্থী শিবিরে যে ভবনটিতে হামলা হয়েছে, সেটি বর্তমানে একজন ব্যক্তি খাদ্য সহায়তা বিতরণের রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহার করছিলেন।
এনএনএ জানিয়েছে, ভবনটি আগে শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা যৌথ ফিলিস্তিনি বাহিনী ব্যবহার করত।
সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। লেবাননের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে একযোগে হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সামরিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে—সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা আবারও বাড়তে পারে।

