রাশিয়ার সাইবেরিয়ার বৈকাল হ্রদ—যা বিশ্বের গভীরতম হ্রদ হিসেবে পরিচিত—সেই মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝেই ঘটেছে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। গতকাল শুক্রবার একটি পর্যটকবাহী বাস বরফ ভেঙে হ্রদের পানিতে তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় সাতজন পর্যটক নিহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহতরা চীনা নাগরিক।
রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক শাখা সামাজিক মাধ্যমে জানায়, বাসটি প্রায় তিন মিটার চওড়া একটি বরফের ফাটলে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেটি ১৮ মিটার গভীরে তলিয়ে যায়। বরফের ওপর দিয়ে চলাচলের সময় এমন ফাটল অনেক সময় চোখে পড়ে না—আর সেটিই কাল হয়ে দাঁড়ায় এই যাত্রীদের জন্য।
উদ্ধারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পানির নিচে ক্যামেরা ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালিয়ে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে বাসটি পুরোপুরি পানির নিচে ডুবে যায়।
ইরকুত্স্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ জানিয়েছেন, বাসটি ডুবে যাওয়ার আগে একজন পর্যটক কোনোভাবে বের হতে সক্ষম হন। তিনি এখন জীবিত রয়েছেন। নিহতদের জাতীয়তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা না হলেও, চীনের কনস্যুলেট জেনারেলকে ইতোমধ্যে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বৈকাল হ্রদ বিশ্বের গভীরতম ও প্রাচীনতম স্বাদুপানির হ্রদ। শীতকালে পুরো হ্রদটি পুরু বরফে ঢেকে যায়। বরফের নিচে আটকে থাকা ঢেউয়ের ধাক্কার শব্দ এবং স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ বরফের স্তম্ভ—এই অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে বিপদ। বরফের পুরুত্ব সব জায়গায় সমান নয়। কোথাও কোথাও অদৃশ্য ফাটল তৈরি হয়, যা ভারী যানবাহনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
কর্তৃপক্ষ জানায়, হ্রদের ওপর চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট ও অনুমোদিত পথ রয়েছে। এসব নির্দিষ্ট রুটের বাইরে যানবাহন চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গভর্নর কোবজেভ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলের সড়কটি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
এই ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

