ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যেই ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ শুরু করে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতি থামানোর একমাত্র উপায় হলো রাশিয়ার ওপর তীব্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।
বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেন, ইউক্রেন এই যুদ্ধে পরাজিত হবে না। বরং শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করবে। তার মতে, এই লড়াই শুধু ভূখণ্ড রক্ষার নয়—এটি একটি জাতির অস্তিত্ব, স্বাধীনতা এবং ন্যায়ের প্রশ্ন।
যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে রাশিয়ার আঞ্চলিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন জেলেনস্কি। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা দোনেৎস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল ছেড়ে দেওয়াকে তিনি কেবল জমি হারানো হিসেবে দেখছেন না। তার মতে, এটি লাখ লাখ মানুষকে পরিত্যাগ করা এবং ইউক্রেনীয় সমাজকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করার শামিল।
তিনি সতর্ক করে বলেন, পুতিনকে এখন থামানো না গেলে ভবিষ্যতে ইউরোপের অন্য দেশগুলোও হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকাও উঠে আসে। ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসা এবং কিছু আঞ্চলিক ছাড় দেওয়ার বিষয়ে চাপ দিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে জেলেনস্কি কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা কেবল কোনো প্রেসিডেন্টের মৌখিক প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করতে পারে না। বরং তা কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তন হলেও ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকে।
মার্কিন পক্ষ থেকে ইউক্রেনে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের দাবিও উঠেছে। এ প্রসঙ্গে জেলেনস্কি জানান, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজন প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন। তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে তিনি এতে রাজি হতে পারেন। তার মতে, যেকোনো নির্বাচনের আগে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
জেলেনস্কির কাছে বিজয় মানে শুধু হারানো ভূমি পুনরুদ্ধার নয়। তিনি মনে করেন, প্রকৃত বিজয় হবে ইউক্রেনের স্বাধীনতা অটুট রাখা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
তবে তিনি আক্ষেপ করে জানান, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা তা তৈরির লাইসেন্স এখনো পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়টি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে সীমিত করছে বলে তার অভিযোগ।
সবশেষে জেলেনস্কি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পুতিন যুদ্ধ থামাতে না চাইলেও সঠিক কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশলের মাধ্যমে তাকে পিছু হটতে বাধ্য করা সম্ভব। তার বার্তা স্পষ্ট—ইউক্রেন আপসের পথ বেছে নেবে না, বরং চাপ সৃষ্টি করে পরিস্থিতি বদলাতে চায়।

