নেপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ১টার দিকে রাজধানী কাঠমান্ডুর কাছাকাছি চিনাধারা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
ধাদিং জেলা ট্রাফিক পুলিশ অফিসের প্রধান শিশির থাপা দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ত্রিশুলি নদীতে পড়ে যায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, সোমবার ধাদিং জেলা থেকে পোখরা হয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। বাসটি বেনিঘাট রোরাং গ্রামীণ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরৌন্ডির কাছে চিনাধারা এলাকায় পৌঁছালে চালক গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সেটি সড়ক থেকে ছিটকে সরাসরি ত্রিশুলি নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় বাসে ৩৫ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তবে মধ্যরাতে অন্ধকার পরিবেশ এবং নদীর স্রোত থাকায় উদ্ধারকাজ বেশ কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হাইওয়ে রেসকিউ ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান রাজকুমার ঠাকুরি জানিয়েছেন, আহত ২৫ জন যাত্রীকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেপালের দুর্গম পাহাড়ি সড়কগুলোতে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। সংকীর্ণ রাস্তা, গভীর খাদ ও নদীর ধারে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক—এসব কারণেই সামান্য অসতর্কতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
সর্বশেষ এই দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

