ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নাবলুসের কাছে তেল শহরে অবস্থিত আবু বকর আল-সিদ্দিক মসজিদে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি সেটলারদের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিয়ে আরব নিউজ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে গিয়ে মুসল্লিরা আগুন দেখতে পান। মসজিদের ভেতর থেকে বের হওয়া ঘন কালো ধোঁয়ায় প্রবেশপথ প্রায় ঢেকে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন, তবে ততক্ষণে মসজিদের দরজা ও কাচের বেশ ক্ষতি হয়ে যায়।
মসজিদের পাশেই বসবাসকারী মুনির রামদান জানান, দরজা খুলতেই তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। তার ভাষায়, “এখানে আগুন জ্বলছিল, কাচ ভাঙা ছিল এবং দরজাটিও ভাঙা ছিল।” ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি গ্যাসোলিন ও স্প্রে পেইন্টের ক্যান হাতে নিয়ে মসজিদের দিকে এগিয়ে যায়। কয়েক মিনিট পর তারা দ্রুত সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
ফিলিস্তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বছর পশ্চিম তীরে ৪৫টি মসজিদে ভাঙচুর বা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেটলাররা। তাদের মতে, এই ধরনের হামলা শুধু সম্পত্তির ক্ষতিই নয়, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শামিল।
তেল শহরের বাসিন্দা সালেম ইশতাইয়েহ বলেন, “এটি বিশেষভাবে রোজাদারদের উদ্দেশে উসকানি। তারা শুধু ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছে না, তারা আপনার ধর্ম ইসলামের ওপর আঘাত হানছে।” তার মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে স্থানীয়দের ক্ষোভ ও উদ্বেগ।
ফিলিস্তিনি নাগরিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়। ফলে এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত সপ্তাহেই ১৯ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি-আমেরিকান যুবক নাসরাল্লাহ আবু সিয়াম নিহত হন, যার জন্যও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের দায়ী করা হয়েছে।
পশ্চিম তীরের এই ধারাবাহিক উত্তেজনা অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

