দুই দিনের সরকারি সফরে বুধবার ইসরায়েলে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা খাতে অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সফর শুরুর আগেই এটি ভারতীয় রাজনীতিতে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলেও তার সফর ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
সফরকালে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে নরেন্দ্র মোদির। কিন্তু ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হ্যারেৎজ জানিয়েছে, এ অধিবেশন বয়কটের পরিকল্পনা করছে দেশটির বিরোধী এমপিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্লামেন্টের স্পিকার আমির ওহানা সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক অমিতকে বিশেষ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানাননি। সাধারণত এ ধরনের অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর রীতি রয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতেই বিরোধী দলগুলো বয়কটের পথে হাঁটতে পারে বলে জানা গেছে।
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান-এর বরাতে বলা হয়েছে, বিরোধীরা অনুপস্থিত থাকলে আসন পূরণের জন্য সাবেক এমপিদের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন স্পিকার।
এদিকে ইসরায়েল সফর নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরেও তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কংগ্রেসের এমপি ইমরান মাসুদ বলেছেন, ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান ছিল ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা। তার মতে, প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলে গিয়ে গাজায় চলমান সংঘাত ও শিশুদের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তোলা উচিত।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর উদ্ধৃতি অনুযায়ী, ইমরান মাসুদ বলেন, “ইসরায়েল ভারতকে কী দিতে পারে? প্রধানমন্ত্রী সেখানে যাচ্ছেন। তাঁর যদি ন্যূনতম নৈতিকতা থাকে, তবে গাজায় শিশুদের মৃত্যু নিয়ে কথা বলা উচিত। ভারত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—তারা ফিলিস্তিনকে সমর্থন করে।”
অন্যদিকে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআইএম) নেতা এমএ বেবি এক্সে দেওয়া পোস্টে মন্তব্য করেন, মোদির এই সফর ভারতের ‘উপনিবেশবাদবিরোধী উত্তরাধিকার’ এবং ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি দীর্ঘদিনের সমর্থনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি আরও লেখেন, ভারত জাতিসংঘে যেসব প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে, এ সফর সেগুলোর পরিপন্থী। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী উল্লেখ করে এমএ বেবি দাবি করেন, নিরাপত্তা ইস্যুতে সহযোগিতার নামে এই ঘনিষ্ঠতা ভারতের নীতিগত অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
ভারত ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়িয়েছে। ফলে মোদির এই সফরকে অনেকেই কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে দেখছেন।
তবে সমালোচকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এমন সফর ভারতের পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে, ইসরায়েলে মোদির এই সফর কেবল কূটনৈতিক কর্মসূচি নয়—বরং তা ভারত ও ইসরায়েল উভয় দেশের রাজনীতিতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে কতটা এগিয়ে নেয় এবং সমালোচনার জবাবে নয়াদিল্লি কী অবস্থান নেয়।

