দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে অস্থির হয়ে উঠেছে। সীমান্তে সামরিক উত্তেজনার জেরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের এই ঘোষণা দুই দেশের সম্পর্ককে এক অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পাকিস্তান সরাসরি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে সর্বাত্মক কূটনৈতিক চেষ্টা চালিয়েছিল। তাঁর ভাষায়, পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছিল।
তবে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন তিনি। এক্স পোস্টে তিনি লেখেন, “আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। এখন তোমাদের সঙ্গে আমাদের প্রকাশ্য যুদ্ধ।”
এই বক্তব্য কার্যত দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকে সরাসরি সংঘাতে রূপ দিয়েছে।
উত্তেজনার সূত্রপাত সীমান্তে সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। পাকিস্তানের দাবি, তাদের সীমান্তে হামলা চালানো হয়, যাতে কয়েকজন সেনা নিহত হন। এই ঘটনার পর ইসলামাবাদ পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পাকিস্তান এরপর আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে সামরিক অভিযান শুরু করে। রাজধানী কাবুল এবং কান্দাহারসহ একাধিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পাকিস্তান এই সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন গজব লিল হক’। দেশটির বিমান বাহিনী (পিএএফ) অভিযানে অংশ নেয় বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই অভিযানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আফগান সেনা হতাহত হয়েছেন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিক্রিয়া “ব্যাপক ও চূড়ান্ত।” তাঁর এই মন্তব্য পরিস্থিতির গুরুত্ব ও কঠোর অবস্থানকেই ইঙ্গিত করে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত, নিরাপত্তা ও জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে উত্তেজনা ছিল। তবে এবার প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণার ফলে পরিস্থিতি অনেক বেশি স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা শুধু পাকিস্তান ও আফগানিস্তান নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বর্তমানে দুই পক্ষই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পাকিস্তান বলছে, তারা প্রয়োজনীয় জবাব দিয়েছে এবং দেবে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের অবস্থানও উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত দিচ্ছে না।
এখন বড় প্রশ্ন—এই সংঘাত কি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেবে, নাকি শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক আলোচনার পথেই সমাধান খোঁজা হবে?
পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, আর তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণে।

