দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নোট পরিবহনের সময় একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে। রাজধানী লা পাজের নিকটবর্তী এল আল্টো শহরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বলিভিয়ান বিমানবাহিনীর একটি সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নতুন ছাপানো ব্যাংকনোট বহন করছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই বিমানটি এল আল্টো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। টেলিভিশন খবরে জানানো হয়, অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং পাশের একটি মহাসড়কে উঠে যায়। সেখানে থাকা কয়েকটি গাড়ির ওপর বিমানটি আঘাত হানে, ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ে।
রয়টার্স ও বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি সান্টা ক্রুজ থেকে উড্ডয়ন করেছিল এবং গন্তব্য ছিল এল আল্টো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে বিমানকর্মী ছাড়াও সড়কে থাকা কয়েকজন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে এল আল্টো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে বিমান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হয়।
বলিভিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে বিধ্বস্ত বিমানটি তাদের একটি সি-১৩০ হারকিউলিস, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন ব্যাংকনোট পরিবহনের দায়িত্বে ছিল। তবে মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানায়, পরিবহন করা এসব ব্যাংকনোটের কোনো ক্রয়ক্ষমতা নেই। অর্থাৎ সেগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচলনে আসেনি এবং এগুলো সংগ্রহ বা ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
দুর্ঘটনার পর কিছু মানুষ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নোট সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব নোট ব্যবহারের চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দুর্ঘটনার ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরেছেন এক প্রত্যক্ষদর্শীর স্বজন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, “আমার বোন গাড়ির ভেতরে ছিল যখন বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানের একটি চাকা সরাসরি তার গাড়ির ওপর পড়ে। আঘাতে তার মাথায় গুরুতর চোট লাগে। আমরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।” এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, দুর্ঘটনাটি কতটা আকস্মিক ও বিধ্বংসী ছিল।
প্রতিকূল আবহাওয়া এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিমানটির প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল কি না, অথবা আবহাওয়াজনিত কারণে পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বলিভিয়ায় সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই বিমান চলাচল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য। তাই এ ধরনের দুর্ঘটনা দেশটির বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছে সরকার। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও, পুরো দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

