ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তেহরানে বিস্ফোরণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে, যা রাজধানীতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় আয়াতুল্লাহ খামেনিকে ইতিমধ্যেই তেহরান থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার বর্তমান অবস্থান সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি। নিরাপত্তাজনিত কারণে বিষয়টি কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং ঘটনাস্থলের আশেপাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতেও বিস্ফোরণের প্রভাবের আভাস পাওয়া গেছে, যদিও সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সূত্রগুলো বলছে, হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সম্প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সেই প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, শেষ ২৪ ঘণ্টায় তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ আর নেই।
এই প্রেক্ষাপটেই পরিস্থিতি দ্রুত সামরিক রূপ নেয়। ইসরায়েলি সীমান্তে বাড়তে থাকা উত্তেজনা থেকে সম্ভাব্য সংঘাতের ইঙ্গিত মিলছিল। ইতোমধ্যে ইসরায়েলের আকাশসীমা বন্ধ করে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।
এর আগে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফর করে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোর পথ খোঁজা। তবে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সেই প্রচেষ্টা কার্যত ভেস্তে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, খামেনির দপ্তরে হামলার ঘটনা প্রতীকী ও কৌশলগত—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল সামরিক নয়, রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সরাসরি সংঘর্ষ এড়ানো কঠিন হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগের সঙ্গে ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে। সামনে কী ধরনের সামরিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা-ই নির্ধারণ করবে এই সংকট কোন দিকে গড়াবে।

