ইসরায়েলের দিকে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। হুমকির খবর পাওয়ার পরপরই দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। বিষয়টি জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা মেনে চলতে নাগরিকদের অনুরোধ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দ্রুত সক্রিয় হয়েছে এবং সম্ভাব্য আঘাত এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর দাবি, এই মুহূর্তে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী আকাশে সক্রিয় রয়েছে এবং সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত করার কাজ করছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী, লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস বা নির্মূলের পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।
এরই মধ্যে কিছু গণমাধ্যমে ইসরায়েলের ভেতরে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক আরেকটি বড় ঘটনা। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিস লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, হামলার পর খামেনিকে তেহরান থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার বর্তমান অবস্থান সরকারিভাবে গোপন রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং আশপাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখেছেন। সূত্রগুলো বলছে, ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করেছিল। তবে সেই আলোচনা কোনো ইতিবাচক ফল দেয়নি। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, শেষ ২৪ ঘণ্টায় তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে—বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার সুযোগ নেই।
এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকির কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ এই সংঘাত বড় আকার ধারণ করলে এর প্রভাব শুধু দুই দেশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, পুরো অঞ্চলেই অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

