ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় মৃত্যুবরণ করেছেন—এমন খবর নিশ্চিত হওয়ার পর দেশটিতে নেতৃত্বশূন্যতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা খামেনির অনুপস্থিতিতে এখন ইরানের ক্ষমতার ভার কার হাতে যাবে—তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, এই সংকটময় সময়ে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী পরিষদ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এই পরিষদ সাময়িকভাবে দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করবে।
খবরে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী এই পরিষদে থাকবেন—
-
দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট,
-
বিচার বিভাগের প্রধান,
-
এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ফকিহ (ধর্মীয় আইন বিশেষজ্ঞ)।
এই তিনজন যৌথভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা বিষয়ক নীতিনির্ধারণ এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম চালু রাখা—সবই তাদের তত্ত্বাবধানে চলবে।
আইআরএনএ জানিয়েছে, ইরানের সংবিধান অনুযায়ী নেতৃত্বের রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কাঠামো এই পরিষদের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মতো একটি ধর্মীয় প্রজাতন্ত্রে সর্বোচ্চ নেতার পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুধু রাজনৈতিক নয়, ধর্মীয় ও কৌশলগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হবে।
শনিবার রাতেই ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র খামেনিকে হত্যার দাবি করে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। অবশেষে রোববার ভোর নাগাদ ইরান নিশ্চিত করে যে খামেনি আর বেঁচে নেই।
এই ঘোষণার পর দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
খামেনির মৃত্যু ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। অন্তর্বর্তী পরিষদের দায়িত্ব হবে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরানের এই নেতৃত্ব পরিবর্তন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন সবার নজর—নতুন সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন এবং তিনি কোন পথে ইরানকে এগিয়ে নেবেন।

