লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। হামলার পর পুরো এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। বিশেষ করে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি দাহিয়েহ—যা হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত—সেখানে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আকাশে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের গর্জন শোনা যায় এবং মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর বড় ধরনের রকেট হামলার পর তারা ‘লেবাননজুড়ে’ গোষ্ঠীটির বিভিন্ন ঘাঁটিতে আঘাত হানছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়,
“হিজবুল্লাহকে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। এই হামলার কঠোর ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।”
ইসরায়েলের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের হামলা ছিল প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের অংশ।
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি জানায়, এটি ছিল ‘প্রাথমিক জবাব’।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে প্রতিশোধমূলক ও প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে তুলে ধরছে।
বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি দাহিয়েহ দীর্ঘদিন ধরেই হিজবুল্লাহর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় হামলা চালানো মানে সরাসরি শক্ত বার্তা দেওয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, দাহিয়েহতে ইসরায়েলের এই হামলা কেবল সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং কৌশলগত বার্তাও বহন করে—হিজবুল্লাহর কেন্দ্রস্থলে আঘাত হানার সক্ষমতা দেখানো।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর এই সরাসরি সংঘর্ষ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। ইরান, লেবানন, ইসরায়েল—সব মিলিয়ে ইতোমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা অঞ্চলটি নতুন করে বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশেষ করে খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিশোধ ও প্রতিরোধের রাজনীতি আরও তীব্র হয়েছে। এর ফলে সীমিত সংঘাত দ্রুত পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—এমন শঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না পর্যবেক্ষকরা।
বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। একদিকে ইসরায়েলের কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে হিজবুল্লাহর প্রতিশোধের ঘোষণা—দুই পক্ষের কেউই পিছু হটার ইঙ্গিত দিচ্ছে না।
এই সংঘাত যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে এর প্রভাব শুধু লেবানন ও ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্য আরও বড় অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে।

