ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের ফার্স প্রদেশে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) দেশটির মেহর নিউজ এজেন্সি স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
রাষ্ট্র পরিচালিত শহীদ ফাউন্ডেশনের প্রধান ইব্রাহিম বায়ানির উদ্ধৃতি দিয়ে আরেক সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ফার্স প্রদেশে ৩৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শত্রুপক্ষের বিমান হামলা সোমবারও অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে আরও বেশি হতাহতের খবর উঠে আসে। বিশেষ করে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে বিমান হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি, তবুও এমন খবর জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও কৌশলগত ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান তেল আবিবসহ অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও সশস্ত্র ড্রোন হামলা চালায়।
সংঘাত শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি কমপাউন্ডে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দাবি করেন, খামেনির মৃত্যু ছিল “মাসের পর মাসের গোয়েন্দা পরিকল্পনার ফল”।
গত ৭২ ঘণ্টায় উভয় পক্ষের হামলার মাত্রা ও তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিমান হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং ড্রোন আক্রমণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের এই ধারা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বাড়বে। বিশেষ করে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ফার্স প্রদেশে ৩৫ জন নিহতের খবর এবং মিনাবে স্কুলে হামলার অভিযোগ ইঙ্গিত দিচ্ছে—সংঘাত এখন আর কেবল সামরিক ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনেও।
এই পরিস্থিতি কত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে, তা নির্ভর করছে পরবর্তী সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর। তবে আপাতত মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে উত্তেজনার ঘন কালো মেঘই ভাসছে।

