ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশপথে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রথম দিনেই ৩ হাজার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে অঞ্চলজুড়ে প্রায় ৩ লাখ যাত্রী বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের প্রভাব সরাসরি পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল কেন্দ্রগুলোতে। নিরাপত্তাজনিত কারণে একাধিক দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বড় বড় বিমানবন্দর সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এই তালিকায় রয়েছে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শারজাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পুরো অঞ্চলে অন্তত ছয় থেকে সাতটি বড় বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় এই হাবগুলো ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র। ফলে এসব বিমানবন্দর অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক বিমান চলাচলেও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আটকে পড়া যাত্রীদের অভিজ্ঞতার কথাও উঠে আসছে। অনেকেই জানিয়েছেন, ফ্লাইট পরিবর্তন, হোটেল ভাউচার বা সহায়তা পেতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে টার্মিনালের ভেতর রাত কাটাচ্ছেন।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে যুক্তরাজ্য সহায়তাকারী দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। সংঘাত চলমান থাকায় আকাশসীমা কবে পুরোপুরি খুলবে—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। ফলে হাজারো যাত্রী অনিশ্চয়তার মধ্যেই অপেক্ষা করছেন।

