মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ইরানের ছোড়া ড্রোন আঘাত হেনেছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার ভোরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় কূটনৈতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুটি ড্রোন মার্কিন দূতাবাসে আঘাত করে। প্রাথমিক মূল্যায়নে সীমিত অগ্নিকাণ্ড এবং কিছু স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির কথা বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে অবগত তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ভোরের দিকে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর দূতাবাস ভবনের একটি অংশে আগুনের শিখা দেখা যায়। রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে—যেখানে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশন অবস্থিত।
তাদের মধ্যে দুজন জানান, ভোরের সময় ভবনটি প্রায় খালি ছিল এবং আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই রিয়াদ, জেদ্দা ও ধাহরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ‘শেল্টার ইন প্লেস’ নির্দেশনা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দূতাবাস এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ঘটনাটির পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার সময় ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগেই সৌদি আরবের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে কাতারের রাজধানী দোহায়ও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ঘাঁটির বাইরে কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। দূতাবাসে আঘাত মানে সরাসরি একটি রাষ্ট্রের প্রতীকী উপস্থিতিতে আঘাত।
যদি এই হামলার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে। এতে সংঘাত সীমিত সামরিক লড়াই থেকে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন প্রশ্ন—এটি কি বিচ্ছিন্ন হামলা, নাকি বড় কৌশলগত পাল্টা আঘাতের অংশ?
পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। রিয়াদের আকাশে যে ধোঁয়া উঠেছে, তা হয়তো আরও বিস্তৃত সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা ও দিনই নির্ধারণ করবে এই উত্তেজনা কোন পথে গড়াবে।

