ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—এই যুদ্ধে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট (ন্যাটো) কোনোভাবেই সরাসরি জড়াবে না।
সোমবার (২ মার্চ) বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে সমর্থন ও সীমারেখা—দুই বার্তাই ছিল স্পষ্ট।
জার্মান টেলিভিশন এআরডি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্ক রুটে বলেন,
“যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখানে যা করছে তা সত্যিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা ইরানের পারমাণবিক এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অর্জনের সক্ষমতাকে ধূলিসাৎ ও দুর্বল করে দিচ্ছে।”
তার মতে, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে এই ধরনের পদক্ষেপ জরুরি ছিল। তবে এই সমর্থন সত্ত্বেও ন্যাটো একটি সামরিক জোট হিসেবে সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না—এ বিষয়ে তিনি জোর দিয়ে কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুটে বলেন,
“ন্যাটোর এই যুদ্ধে টেনে হিঁচড়ে নামার বা এর অংশ হওয়ার একেবারেই কোনো পরিকল্পনা নেই।”
তিনি ব্যাখ্যা করেন, জোটগতভাবে কোনো সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অর্থাৎ ন্যাটোর পতাকার নিচে কোনো যৌথ অভিযান বা সম্পৃক্ততা থাকবে না।
তবে সদস্য দেশগুলো চাইলে ব্যক্তিগতভাবে বা স্বতন্ত্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহায়তা করতে পারে। এই সহায়তা জোটের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হবে না।
রুটে বলেন,
“আমেরিকানরা ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে যা করছে, তা সক্ষম করার জন্য ব্যক্তিগতভাবে মিত্র দেশগুলো যা করতে পারে তা করা ছাড়া ন্যাটোর অন্য কোনো ভূমিকা থাকবে না।”
এ বক্তব্যে স্পষ্ট যে, ন্যাটো একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের কার্যক্রমের কৌশলগত গুরুত্ব স্বীকার করছে, অন্যদিকে জোট হিসেবে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর ঝুঁকি নিচ্ছে না।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটো এই মুহূর্তে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চায় না। জোটের মূল লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামার কোনো আইনি বা কৌশলগত বাধ্যবাধকতা ন্যাটোর নেই।
এ ছাড়া ইউরোপে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন প্রেক্ষাপট এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন—সব মিলিয়ে ন্যাটো তার মনোযোগ বিভক্ত করতে চায় না।
বিশ্বজুড়ে যখন ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে, তখন ন্যাটোর এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এটি একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন, অন্যদিকে বৃহত্তর সামরিক জোট হিসেবে সরাসরি সংঘাতে না জড়ানোর কৌশলগত সিদ্ধান্ত।
মার্ক রুটের বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে—ন্যাটো তার সামরিক সীমানা নির্ধারণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে জোটটি নিজস্ব কাঠামো ও উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হবে না।

