ইরানের ভেতরে চলমান সামরিক অভিযানে অন্তত ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে বোমা হামলা শুরু করার পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যার জেরে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের প্রাথমিক পাল্টা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি স্থাপনা থেকে নিখোঁজ দুই সেনার মরদেহ সম্প্রতি উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে অভিযানে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ছয় জনে দাঁড়িয়েছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, নিহত সেনাদের নাম-পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, পরিবারকে অবহিত করার ২৪ ঘণ্টা পর আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পরিচয় জানানো হবে।
এই তথ্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক অভিযানের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে হামলা চালায়। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।
তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত তার প্রাসাদ সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ওই হামলায় খামেনি ছাড়াও তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ ও জামাই প্রাণ হারান বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তোলে।
খামেনির মৃত্যুর পরও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরানে তাদের অভিযান এখনো শেষ হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে যৌথ হামলা অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র কেবল প্রতীকী হামলায় থেমে থাকতে চাইছে না; বরং ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতায় দীর্ঘমেয়াদি আঘাত হানার পরিকল্পনা রয়েছে।
ছয় মার্কিন সেনার নিহত হওয়ার ঘটনা সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এখন প্রশ্ন—এই ক্ষয়ক্ষতির পর যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে কি না।
মধ্যপ্রাচ্যের এই দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা নির্ভর করছে পরবর্তী সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।

