মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আরব মুসলিম দেশগুলোকে ঘিরে তিনি করেছেন চাঞ্চল্যকর দাবি। তার ভাষ্য, যেসব আরব দেশ শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে যুক্ত হতে অনাগ্রহ দেখিয়েছিল, তারাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সক্রিয় অংশ নিতে চাপ দিচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ধারাবাহিক হামলার ফলেই আরব দেশগুলোর অবস্থানে এই পরিবর্তন এসেছে। সোমবার (২ মার্চ) সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের আক্রমণের মুখে পড়েছে আরবের কয়েকটি দেশ। সে কারণেই তারা তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, পরিস্থিতি তাদেরও বিস্মিত করেছে। তার কথায়, “আমরা অবাক হয়েছিলাম। তারা আক্রমণাত্মকভাবে লড়াই করছে। তাদের খুব সীমিত হামলা চালানোর কথা ছিল, কিন্তু এখন তারা পুরোপুরি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে।”
টানা চার দিন ধরে ইরানে অতর্কিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। বিশেষ করে ইরান তেল আবিবসহ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও সশস্ত্র ড্রোন ছুড়ছে।
এরপর বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে।
সৌদিতে মার্কিন দূতাবাসে হামলা:
এরই মধ্যে সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে।
এই প্রেক্ষাপটে গতকাল ছয়টি আরব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে অঞ্চলজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাকে বেপরোয়া এবং অযৌক্তিক বলে নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে দেশগুলো ইরানের পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে উল্লেখ করে। বলা হয়, এসব হামলা একাধিক দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
এই যৌথ বিবৃতির পরই আরব দেশগুলোর অবস্থান পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন ট্রাম্প। তবে কোন কোন দেশ যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে চাইছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে জানায়, ইরানে হামলার পেছনে সৌদি আরবের ভূমিকা থাকতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি যুবরাজ প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিরোধিতা করলেও গোপনে তেহরানে হামলার জন্য ট্রাম্পকে বারবার চাপ দিয়েছেন।

