সৌদি আরব ও কাতার তাদের ভূখণ্ডে বোমা হামলার পরিকল্পনা করা ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্টদের গ্রেফতার করেছে—এমন দাবি করেছেন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাংবাদিক টাকার কার্লসন।
সোমবার (২ মার্চ) নিজের অনুষ্ঠানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, উপসাগরীয় যেসব দেশ ইরানের হামলার শিকার হয়েছে, সেখানে ইসরায়েল কেন বোমা হামলার পরিকল্পনা করবে? তারা কি একই পক্ষে নয়?
কার্লসনের বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েল শুধু ইরানকে দুর্বল করতে নয়, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন ও কুয়েতসহ একাধিক দেশে অস্থিতিশীলতা ছড়াতে চায়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।
তবে সৌদি আরব, কাতার বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের সমালোচনায় বিতর্ক:
গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কার্লসন এবং তার দলের সদস্যদের স্বল্প সময়ের জন্য আটক করেছিলেন।
সাক্ষাৎকারে হাকাবি বলেছেন, ইহুদিদের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনের ‘ঐশ্বরিক অধিকার’ রয়েছে। তিনি ফিলিস্তিনিদের জাতীয় পরিচয়ও অস্বীকার করেছেন। এর আগে অনলাইনে দুজনের মধ্যে প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা হয়েছে। কার্লসন খ্রিস্টানদের প্রতি ইসরায়েলের আচরণকে ‘জঘন্য’ বলে সমালোচনা করেছিলেন।
ইরানে যৌথ হামলার প্রেক্ষাপট:
কার্লসনের সাম্প্রতিক মন্তব্য এসেছে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে। দুই দেশ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হামলা শুরু করে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তারা ৭০০ ড্রোন এবং শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ৫০০–র বেশি মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
গত সোমবার সৌদি আরবের রাস তানুরায় অবস্থিত তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলায় আগুন লেগেছে। হামলার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করা হলেও তেহরান জানিয়েছে, তারা সৌদির তেল স্থাপনায় কোনো হামলা করেনি। একই দিনে কাতারের শিল্পনগরী রাস লাফানের একাধিক জ্বালানি স্থাপনাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সুত্র: মিডল ইস্ট আই

