শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) শুরু হওয়া অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যে মাত্রায় অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে, তা যুদ্ধ ব্যয়কে আকাশচুম্বী পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বি-২ স্টিলথ বোম্বার, এফ-৩৫ ফাইটার জেট, পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী এবং টমাহক ক্রুজ মিসাইলের ব্যাপক ব্যবহার এই বিপুল ব্যয়ের প্রধান কারণ।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের হোয়াইটম্যান বিমান ঘাঁটি থেকে চারটি বি-২ স্টিলথ বোম্বার বিরতিহীন উড়ে এসে ইরানে হামলা চালায়। এই বোম্বারগুলোর উড্ডয়ন ঘণ্টা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবহৃত ২০০০ পাউন্ডের জেডিএএম বোমার খরচ মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০.২ মিলিয়ন ডলার।
এ ছাড়া এফ-২২, এফ-৩৫ এবং এফ-১৬-এর মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কয়েক দফা আক্রমণ পরিচালনা করে। এসব বিমানের অভিযান ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ খরচ হয়েছে আরও ২৭১.৩৪ মিলিয়ন ডলার।
অভিযানে ব্যবহৃত বিশেষায়িত সামরিক সম্পদের ব্যয়ও কম নয়। ইএ-১৮জি গ্রাউলার, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার এবং স্থলভিত্তিক হাইমার্স ব্যাটারি মিলিয়ে আকাশ ও স্থল সম্পদের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪২৩.৫৭ মিলিয়ন ডলারে।
সমুদ্রপথে মোতায়েন ছিল ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড নামের দুটি পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী। এই রণতরী দুটির দৈনিক পরিচালনা ব্যয়ই প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার।
ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নৌবাহিনী প্রায় ২০০টি টমাহক ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। এই মিসাইলগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৪০.৪ মিলিয়ন ডলার।
সব মিলিয়ে একদিনের এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৭৯.১৭৪ মিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, এত বিপুল পরিমাণ উন্নত অস্ত্র ও সামরিক সম্পদ ব্যবহার দেখায় যে অভিযানটি ছিল উচ্চ মাত্রার কৌশলগত ও প্রযুক্তিনির্ভর। তবে একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে, আধুনিক যুদ্ধ শুধু সামরিক শক্তির প্রদর্শন নয়—বরং আর্থিক সক্ষমতারও পরীক্ষা।
একদিনেই প্রায় ৭৮০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হওয়া মানে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হলে ব্যয় কতটা বাড়তে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।

