ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার বিরোধিতা এবং অবিলম্বে এই সংঘাতের অবসানের আহ্বান জানিয়েছে চীন। মঙ্গলবার ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সারের সঙ্গে এক ফোনালাপে ওই আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। সূত্র: রয়টার্স
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, টেলিফোনে আলাপকালে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ওয়াং ই বলেছেন, বলপ্রয়োগ করে কখনোই সমস্যার প্রকৃত সমাধান সম্ভব নয়; বরং এটি প্রায়ই নতুন সমস্যার জন্ম দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদি গুরুতর পরিণতি ডেকে আনে। সামরিক শক্তির আসল সার্থকতা যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং যুদ্ধ প্রতিরোধ করার মধ্যে নিহিত।
মঙ্গলবার ইরানের রাজধানী তেহরান, লেবাননের রাজধানী বৈরুত, বাহরাইনের মানামা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের হামলায় আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা-পাল্টা হামলায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
এসব বিষয় উল্লেখ করে গিডিওন সারকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সব সমস্যা সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে চীন বিশ্বাস করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন জারি রাখবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে, সোমবার ইরান, ওমান ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেন চীনা এই শীর্ষ কূটনীতিক। টেলিফোনে আলাপকালে উপসাগরীয় দেশগুলোকে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া গত রোববার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গেও ইরান সংকট নিয়ে আলোচনা করেন ওয়াং ই।
তবে গত শনিবার থেকে ইরানে হামলা শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনও কথা বলেননি চীনের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলায় শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির চার ডজনের বেশি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটিতে ওই দুই দেশের চলা হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

