ইরানের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উদ্বেগ ও উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি দেশ মনে করছে, ইরান তাদের সার্বভৌমত্বের সীমা বা ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করেছে।
কাতার সরকারের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তাদের দেশের আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর বারবার হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এমন আঘাত আর বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান মূলত ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে বাস্তবে এর বড় অংশের প্রভাব পড়ছে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর।
ইরান শত শত মিসাইল ও ড্রোন ছুড়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে। তেহরানের কৌশল হলো—এ অঞ্চলের পর্যটন, বাণিজ্য এবং জ্বালানি খাতের যে নিরাপদ ভাবমূর্তি রয়েছে, তা ক্ষতিগ্রস্ত করা।
সম্প্রতি দুবাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো জেবেল আলী বন্দর ও বিমানবন্দরের আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের ধারণা, আরব দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ালে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধ করতে চাপ দেবে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল উল্টো ফল দিচ্ছে।
কারণ, এসব হামলার ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনের আরও ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানোর অনুমতি দেয়নি। তবে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হওয়ায় তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে।
গাজা ও লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের কারণে আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক আগে থেকেই টানাপোড়েনে রয়েছে। তবে ইরানের সাম্প্রতিক হামলাকে অনেকেই বিশ্বাসঘাতকতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এই পরিস্থিতিতে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) ভুক্ত ছয়টি দেশ এক ধরনের অভিন্ন অবস্থানে চলে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ ইরানকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন,
এই সংঘাত প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নয়। তাই ইরানকে দ্রুত দায়িত্বশীল আচরণে ফিরে আসতে হবে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশটি আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা ও আরও বড় সামরিক উত্তেজনার মুখে পড়তে পারে।
বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতৃত্ব তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের বিকল্প পথ খোলা রাখার কথা বলছে।
এর মধ্যে পাল্টা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা থেকে শুরু করে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

