তুরস্কের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে দাবি করেছে আঙ্কারা। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই পশ্চিমা সামরিক জোট NATO–এর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তা ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ। সূত্র: এএফপি
বুধবার তুরস্কের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে (এএফপি) এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা অতিক্রম করে তুরস্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে সময়মতো শনাক্ত করে আঘাত হেনে অকেজো করে দেয়।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “ইরান থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল, যা ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা অতিক্রম করে তুরস্কের দিকে আসছিল। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন ন্যাটোর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে সেটিকে শনাক্ত করে এবং ধ্বংস করে।” তবে এই ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এই ঘটনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনী–এর রাষ্ট্রীয় বিদায় ও শোক অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বুধবার রাতে তিন দিনব্যাপী শোক অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল। স্থানীয় সময় রাত ১০টায় রাজধানী তেহরানে স্মরণ অনুষ্ঠান শুরুর প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, অনুষ্ঠান আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তবে আয়োজকদের বরাত দিয়ে তাসনিম জানায়, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত প্রস্তুতি পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন করে কবে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘লজিস্টিক’ বা ব্যবস্থাপনাগত জটিলতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করায় আয়োজনের পরিধি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
গত শনিবার তেহরানে নিজ কার্যালয়ে এক গোপন বৈঠকের সময় মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। তার মৃত্যুর পর সরকার দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে।
ইরান জানিয়েছে, ওই হামলায় দেশটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এবং শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর জবাবে তেহরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানের আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ইসরায়েলি স্থাপনা ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা আঞ্চলিক সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। ন্যাটোর সদস্য হিসেবে তুরস্কের ভূখণ্ডে সম্ভাব্য হামলা জোটের প্রতিরক্ষা নীতির আওতায় পড়ে। ফলে এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে আঙ্কারা আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তেহরানের পক্ষ থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।

