মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার মতো সামরিক ও অর্থনৈতিক সামর্থ্য তাদের রয়েছে। তবে একই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় টানা সামরিক তৎপরতার পর এখন ইরানের সঙ্গে নতুন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ছে।
ইরানে হামলার পর থেকে ইসরায়েল নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণের মুখে পড়ছে। তেলআবিব ও হাইফার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে অনেক স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং হাজারো রিজার্ভ সেনাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। সাধারণ মানুষকে প্রায়ই সাইরেন বাজলে দ্রুত বাংকারে আশ্রয় নিতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েলি জনগণের মধ্যে সমর্থন দেখা গেলেও সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড্যানিয়েল বার-তাল মনে করেন, ইসরায়েলি সমাজে দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে প্রধান শত্রু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে অনেক মানুষ এই যুদ্ধকে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ শির হেভার বলেন, যুদ্ধের কারণে দেশের ভেতরে রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সামরিক মনোভাব আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক দিক থেকে বড় প্রশ্ন হলো—ইসরায়েল কতদিন উচ্চমাত্রার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখতে পারবে।
দেশটির তিন স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়মিতভাবে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। প্রতিটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে আলাদা প্রতিরোধী রকেট প্রয়োজন হয়, যা ব্যয়বহুল এবং সীমিত মজুদের ওপর নির্ভরশীল।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হামজে আত্তার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া ইসরায়েলের পক্ষে দীর্ঘ সময় একই মাত্রার প্রতিরক্ষা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।
তার মতে, ইরান যদি ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইসরায়েলকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় অগ্রাধিকার দিতে হতে পারে। এতে বেসামরিক জনগণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত কতদিন চলবে তা নির্ভর করছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর—
-
ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা
-
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা
-
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ও হামলার সক্ষমতা
সব মিলিয়ে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা ইসরায়েলের জন্য কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

