নেপালে আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে দেশজুড়ে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে শুরু করেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
এই নির্বাচনে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্য নির্বাচনের জন্য প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ নতুন ভোটার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতি, বেকারত্ব ও স্বচ্ছ রাজনীতির দাবিতে তরুণদের নেতৃত্বে বড় ধরনের আন্দোলনের পর সরকার পতন ঘটে। সেই ঘটনার পর এটিই দেশটির প্রথম সাধারণ নির্বাচন। দীর্ঘদিন ধরেই নেপাল রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৯০ সালের পর থেকে দেশটিতে প্রায় ৩২ বার সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে।
প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার দেশ নেপালে সংসদের মোট আসন ২৭৫টি। এর মধ্যে ১৬৫ জন সংসদ সদস্য সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। বাকি ১১০ জন নির্বাচিত হবেন সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের আন্দোলনের পর ভোটার তালিকায় প্রায় ১০ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন। এদের বড় অংশই তরুণ। তারা রাজনীতিতে পরিবর্তন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং উন্নত মজুরির দাবিকে সামনে নিয়ে এসেছে।
এই নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে প্রভাবশালী দলগুলোর সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে। পুরোনো দলগুলোর মধ্যে রয়েছে নেপালি কংগ্রেস (এনসি) এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল)। অন্যদিকে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে তিন বছর আগে গঠিত রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ এই দলের দিকে ঝুঁকছে।
৩৫ বছর বয়সী জনপ্রিয় র্যাপ শিল্পী বলেন্দ্র শাহ সম্প্রতি এই দলে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হয়েছেন। তিনি আগে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং গত বছরের আন্দোলনের সময় অন্যতম মুখ হিসেবে সামনে আসেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন ইউএমএলের নেতা কেপি শর্মা অলি। ৭৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিক আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছিলেন।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান এবারের নির্বাচনের ফলাফলকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই নেপালের রাজনীতিতে এই নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

