ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান এখন ষষ্ঠ দিনে পৌঁছেছে। দুই দেশের অতর্কিত হামলার জবাবে ইরান ধারাবাহিক পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
তেহরান বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলো ঠেকাতে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে পড়েছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)–এর এরোস্পেস ফোর্স এবং নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে আক্রমণের দায়িত্ব আইআরজিসি নৌবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের সংঘাতে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ইরানি বাহিনী এই অভিযানে ব্যাপকভাবে সুইসাইড ড্রোন ব্যবহার করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এসব ড্রোন তুলনামূলক কম খরচে তৈরি করা যায় এবং দ্রুত হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়।
তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির ১৪তম ও ১৫তম অভিযান মূলত নৌবাহিনী পরিচালনা করেছে।
এই অভিযানে দক্ষিণ পারস্য উপসাগরের সামুদ্রিক এলাকা ও মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলো কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না— সে বিষয়ে ইরান কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
অন্যদিকে, ইরানের এই দাবির বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি যেভাবে দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

