বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালীতে একটি ট্যাংকার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। মাল্টার পতাকাবাহী ওই জাহাজটিতে ২৪ জন ক্রু ছিলেন। হামলার পর বিধ্বস্ত জাহাজ থেকে তাদের সবাইকে উদ্ধার করেছে ওমানের নৌবাহিনী। সূত্র: মিডেল ইস্ট মনিটর
বুধবার সংঘটিত এই হামলার বিষয়ে ব্রিটিশভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্যাংকারটিতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে জাহাজটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ওমানের নৌবাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, জাহাজে থাকা ২৪ জন ক্রুর সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হামলায় কেউ নিহত না হলেও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে হামলার ধরন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কিংবা জাহাজটির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ওমান কিংবা ইরানের সরকার—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি।
আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও তরলীকৃত গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এ অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রণালীতে উত্তেজনা বেড়েছে। তার একদিন পর, ১ মার্চ, ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা ওই ঘোষণার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর এর প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

