মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনে সংঘাত আরো বিস্তৃত হয়েছে। আঞ্চলিক এই উত্তেজনার মধ্যেই প্রতিবেশী ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ইরান। একই সঙ্গে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নতুন দফায় মিসাইল ও ড্রোন হামলার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। সূত্র: আল-জাজিরা
বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, ‘ইরানবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র বাহিনী’ লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। উত্তর ইরাকের সুলাইমানিয়াহ প্রদেশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আরবাত, জারকুইজ ও সুরদাশ এলাকায় অন্তত চারটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে। হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরাকভিত্তিক কুর্দি সশস্ত্র সংগঠন ‘কোমালা’ (কুর্দিস্তান টয়লার্স অ্যাসোসিয়েশন)-এর সদর দপ্তর। ইরানি গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থানরত কয়েকটি কুর্দি গোষ্ঠী সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। পশ্চিম ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা এবং সামরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল—এমন অভিযোগ তুলে আগাম পদক্ষেপ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কুর্দি অঞ্চলে অভিযান চালানোর পাশাপাশি ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইসরায়েল ও মার্কিন স্বার্থে নতুন করে আঘাত হানার কথা জানিয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ দাবি করেছে, পশ্চিম গ্যালিলি অঞ্চলে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সৌদি আরবও অন্তত তিনটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা বলেছে।
অন্যদিকে, কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন দূতাবাস-সংলগ্ন এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কমান্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য ইরানের মোবাইল মিসাইল লঞ্চারগুলো অকার্যকর করা।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা ইরানের কোম শহর থেকে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত থাকা একটি ব্যালেস্টিক মিসাইল প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস করেছে।
এদিকে, চলমান সংঘাতে ইরানের বিভিন্ন শহরে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,০৪৫ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তেহরান, সানান্দাজ ও বুকানের মতো শহরগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
তেহরান থেকে আল-জাজিরার সংবাদদাতা তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, মধ্যরাত থেকে বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে উঠছে। অনেক বাসিন্দা ইতোমধ্যে শহর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে চলে গেছেন। যারা রয়ে গেছেন, তারা চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
শনিবার থেকে এ পর্যন্ত ইরানের ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৫০টিরও বেশি শহর বিভিন্ন মাত্রার হামলার শিকার হয়েছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন। আঞ্চলিক এই সংঘাত কোথায় গিয়ে থামবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

