ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যুদ্ধ দেশটির অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ ২১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আর্থিক বিশ্লেষক কেন্ট স্মেটার্স। তিনি পেন ওয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
স্মেটার্স ফরচুন ম্যাগাজিনকে বলেন, চলমান উত্তেজনা ইতিমধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার এবং পেট্রোলের দামে অস্থিরতা তৈরি করেছে। তবে যুদ্ধের প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তাঁর বর্তমান হিসাব অনুযায়ী সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১১৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু সংঘাতের ধরন ও স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করে এই অঙ্ক ৫০ বিলিয়ন থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ২১০ বিলিয়ন ডলারেও পৌঁছাতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের ব্যয় নিরূপণে একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাধারণত এসব বিশ্লেষণে বিকল্প পরিস্থিতি ধরা হয় না। যদি ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করত, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক খাতে আরও বড় ব্যয় বহন করতে হতে পারত। এমনকি ভবিষ্যতে শহর পুনর্গঠনের খরচও বাড়তে পারত।
এদিকে অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টি স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট দিয়ে চলাচলকারী জ্বালানি ট্যাংকারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তায় বীমা সুবিধা এবং প্রয়োজনে নৌ-সামরিক পাহারার প্রস্তাব দিয়েছেন।
মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী দ্রুত হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতার কথাও তুলে ধরেন। ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্বীকার করেন, যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম সাময়িকভাবে বাড়তে পারে। তবে সংঘাত শেষ হলে দাম আগের চেয়েও কমে আসতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার লেনদেন শেষে বৈশ্বিক মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ১০ সেন্টের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত কত দিন স্থায়ী হয় তার ওপরই বাজারের বড় অংশের প্রতিক্রিয়া নির্ভর করবে।
সাবেক বাইডেন প্রশাসনের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা এবং গ্রাউন্ডওয়ার্ক কলাবোরেটিভের নীতি ও অ্যাডভোকেসি প্রধান অ্যালেক্স জ্যাকুয়েজ এপিকে বলেন, বাজার এখনো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকিকে পুরোপুরি মূল্যায়ন করছে না। যদি সামরিক অভিযান দ্রুত শেষ না হয় এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচল স্বাভাবিক না হয়, তাহলে অর্থনৈতিক ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি সামরিক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট থেকে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে বিস্তৃত অভিযানে ইতিমধ্যে বিভিন্ন আঞ্চলিক ঘাঁটি থেকে বিমান ও নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত এই অভিযানের সময়কাল এখনো অনিশ্চিত। কংগ্রেসে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে পূর্ণ সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
সোমবার পাঠানো সেই চিঠিতে তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ও টেকসই শান্তি চায়। তবে অভিযানের পরিধি ও সময়কাল পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বোমা হামলা চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।

