মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের মধ্যে ভারতের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ওয়াশিংটন প্রশাসন ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলোকে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ৩০ দিনের সাময়িক ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই সাময়িক মওকুফের ঘোষণা দেন।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণকারী অফিস (OFAC) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৫ মার্চের মধ্যে জাহাজে বোঝাই করা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ভারত ৩ এপ্রিল পর্যন্ত খালাস করতে পারবে।
অর্থাৎ বর্তমানে সমুদ্রে থাকা রুশ তেলের চালানগুলো ভারতীয় শোধনাগারে পৌঁছাতে পারবে এবং সেগুলো গ্রহণে কোনো বাধা থাকবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।
পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রগুলোতে হামলা এবং হরমুজ প্রণালী ইরানের অবরোধের মুখে পড়ায় বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারের চাপ কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের জন্য এই বিশেষ সুবিধা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ভারতের গুরুত্ব তুলে ধরে দেশটিকে একটি “অপরিহার্য অংশীদার” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেলের চালান গ্রহণের এই সুযোগ খুবই স্বল্পমেয়াদি এবং এর ফলে রাশিয়া বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পাবে না।
বরং এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
গত নভেম্বরে ইউক্রেন আক্রমণের জেরে রাশিয়ার জ্বালানি কোম্পানি লুকঅয়েল ও রোসনেফটের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
এর ফলে ভারতে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে ভারত প্রতিদিন প্রায় ১১ লাখ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করেছিল, যা ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সৌদি আরবের রাস তানুকা শোধনাগার এবং ইরাকের রুমাইলা তেলক্ষেত্রে হামলার ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
এই অবস্থায় ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৩ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আপাতত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
এই সাময়িক ছাড়ের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, ভবিষ্যতে ভারত ধীরে ধীরে রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মার্কিন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াবে।
ওয়াশিংটনের মতে, ইরানের সম্ভাব্য “জ্বালানি জিম্মি” করার কৌশল ঠেকাতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রাখতেই ভারতকে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

