ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থলবাহিনী অভিযান নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে ভীত বা উদ্বিগ্ন নয় বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। বরং তারা মার্কিন স্থলবাহিনীর জন্য অপেক্ষা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সূত্র: এনবিসি
গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়— ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনীর সম্ভাব্য অভিযান নিয়ে ইরান চিন্তিত কি না।
জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “না, চিন্তিত নই; বরং আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছি। কারণ আমরা নিশ্চিত যে তাদের আমরা মোকাবিলা করতে পারব এবং এটা হবে তাদের জন্য একটি বড় বিপর্যয়।”
সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি আরও জানান, ওয়াশিংটনকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই। এমনকি ২০২৫ সালের জুন মাসে যখন ১২ দিন ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চলেছিল, তখনও ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, “জেনেভায় পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সংলাপের সময় আমরা অনুমান করতে পেরেছিলাম যে একটি যুদ্ধ ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাব দিইনি। এমনকি গত বছর জুন মাসের ১২ দিনের যুদ্ধে যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছিল, তখনও আমরা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিইনি। সে সময় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল ইসরায়েল, যারা এই সংঘাত সৃষ্টি করেছিল।”
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।
সংলাপ শেষ হওয়ার পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে।
বর্তমানে টানা ছয় দিন ধরে ইরানে যুদ্ধ চলছে। ইতোমধ্যে এ যুদ্ধে প্রায় এক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

