ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার আজ (৬ মার্চ) সপ্তম দিন। হামলার প্রথম দিন শনিবারই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তেহরানও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। এ পর্যন্ত পাওয়া খবরে অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা অন্তত নয়জন। আর ইরানে নিহতের সংখ্যা সহস্র ছাড়িয়েছে।
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোর ওপর তেহরানের হামলা অব্যাহত থাকায় সংঘাত ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ইরাক ও বাহরাইনসহ পশ্চিমা ও মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি হবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেন, “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা বা চুক্তি হবে না।”

এদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং খুব শিগগিরই রণক্ষেত্রে এমন উন্নত ও নতুন প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহার করা হবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই সতর্কবার্তা দিয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের শত্রুদের সামনে দিনগুলোতে ‘যন্ত্রণাদায়ক আঘাতের’ জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি জানান, ইরানের নতুন সামরিক উদ্যোগ ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থাগুলো শিগগিরই আসছে, যেগুলো এখনো বড় পরিসরে মোতায়েন করা হয়নি।
নায়েইনি আরও বলেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় বর্তমানে ইরান সামরিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী। চলমান সংঘাতকে তিনি ‘পবিত্র ও বৈধ যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
ইরানের এই ঘোষণাটি এমন সময়ে এসেছে, যখন দেশটি প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের তেল আবিব শহর লক্ষ্য করে তাদের শক্তিশালী ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

