প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন মেসি ও তাঁর দল ইন্টার মায়ামি। কিন্তু সেখানে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় হাততালি দেওয়ায় এখন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফুটবল বিশ্বের এই মহাতারকা।
গত ডিসেম্বরে ভ্যাঙ্কুভারের একটি দলকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার ফুটবল লিগের শিরোপা জিতেছে ইন্টার মায়ামি। সেই সাফল্য উদ্যাপনেই হোয়াইট হাউসে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। মেসি টানা দ্বিতীয় মৌসুমের মতো লিগের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে মেসিকে পাশে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট যা বলার সুযোগ পাননি, তা বলার সৌভাগ্য আমার হচ্ছে—হোয়াইট হাউসে স্বাগতম, লিওনেল মেসি।” তিনি আরও বলেন, “লিও, তুমি এসেছ এবং জিতেছ। এটা করা খুব কঠিন, খুবই অসাধারণ।”
ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করলেও পুরো সময় মেসি ছিলেন নীরব। তবে অনুষ্ঠানের শুরুতেই ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি এবং আমদানি শুল্ক নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য শুরু করেন।
ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী আমাদের ইসরায়েলি অংশীদারদের সঙ্গে মিলে শত্রুকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।” তিনি জানান, শনিবার শুরু হওয়া এই হামলায় ইতিমধ্যে ১ হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন।
বক্তব্যের শেষ দিকে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের লোকেরা আবারও দুর্দান্ত কাজ করছে—বিশ্বের সেরা সেনাবাহিনী।” তাঁর এই কথার পর মেসি, ইন্টার মায়ামির পুরো দল এবং উপস্থিত অন্যরা হাততালি দেন। আর এতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্সেলোনার সাবেক এই ফরোয়ার্ডের আচরণ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ইরানে মার্কিন অভিযানের বড়াই শুনে হাততালি দেওয়ায় তাকে ‘স্বার্থপর’ ও ‘ফাঁপা’ মানুষ বলে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি–আমেরিকান লেখক আলী আবুনিয়াহ।
‘হালাল নেশন’ নামে একটি একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব থেকে লেখা হয়, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে হারানোর পরিকল্পনার কথা বলছেন আর লিওনেল মেসি হাততালি দিচ্ছেন। মেসি ভক্তরা এখন কোথায়?”
স্প্যানিশ সাংবাদিক লেইলা হামেদ এই ঘটনাকে ‘অদ্ভুত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরো ইন্টার মায়ামি দলের সামনে খুব স্বাভাবিকভাবে ইরানে আরও অবৈধ বোমা হামলার ঘোষণা দিচ্ছেন।”
হামেদ মনে করিয়ে দেন, গত কয়েক দিনে ইরানে শত শত শিশু নিহত হয়েছে। গত শনিবার দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৫ জন ছাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনাটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।
একটি জনপ্রিয় ভিডিওভিত্তিক চ্যানেলেও লেখা হয়েছে, “কখনো ভাবিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্য দেশে বোমা ফেলার কথা বলবেন আর তার পেছনে মেসি ও লুইস সুয়ারেজ দাঁড়িয়ে থাকবেন।”
রাজনৈতিক বক্তব্যের ফাঁকে ট্রাম্প অবশ্য খেলাধুলার কথাও বলেন। মায়ামির খেলোয়াড়দের দিকে তাকিয়ে মজা করে তিনি বলেন, “তোমাদের দলে কি কোনো খারাপ দেখতে খেলোয়াড় আছে? আমি সুদর্শন পুরুষদের পছন্দ করি না, তাদের দেখলে নিজেকে ভালো লাগে না।”
মেসিকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, “তুমি পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় যেতে পারতে। কিন্তু তুমি মায়ামি বেছে নিয়েছ। আবহাওয়া খুব ভালো। তুমি কি ডোরালে যাও? আমার গলফ মাঠে গিয়ে খেলো?”
অনুষ্ঠানে মেসি ট্রাম্পকে নিজের স্বাক্ষর করা একটি ফুটবল উপহার দেন। ট্রাম্প জানান, তাঁর ১৯ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন মেসির বড় ভক্ত। তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো-র কথাও উল্লেখ করেন এবং মেসিকে বলেন, “তুমি হয়তো পেলে-র চেয়েও ভালো।”
ইন্টার মায়ামির সহমালিক হোর্হে মাস এবং কোচ হাভিয়ের মাশচেরানো প্রেসিডেন্টকে একটি জার্সি ও একটি ঘড়ি উপহার দেন। ট্রাম্পের দুই মেয়াদের শাসনামলে ইন্টার মায়ামিই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার ফুটবল লিগের দল, যাদের হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

