যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও বেসামরিক মানুষের জীবনকেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
সম্প্রতি দেওয়া এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বেআইনি আক্রমণ এবং পাল্টা হামলার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিরীহ বেসামরিক নাগরিকরা।
গুতেরেস তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই সাধারণ মানুষের জীবন আরও বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে। অনেক এলাকায় মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, ঘরবাড়ি হারাচ্ছে এবং মৌলিক জীবনযাত্রাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতের প্রভাব কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং এর প্রভাব ধীরে ধীরে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে খাদ্য, জ্বালানি এবং অন্যান্য জরুরি সরবরাহ ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
তার মতে, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, বাণিজ্য প্রবাহে বাধা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হলে তা বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
গুতেরেস বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন যে, সংঘাত দ্রুত আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি এতটাই সংবেদনশীল যে যেকোনো সময় এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা ভুল বোঝাবুঝিও বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ মহাসচিব সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।
গুতেরেসের মতে, যুদ্ধ ও সংঘাত কখনো স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারে না। বরং সংলাপ, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

