ইরানের ওপর এযাবৎকালের বৃহত্তম বোমাবর্ষণ চালানো হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি জানিয়েছেন, আজ রাতে পরিচালিত হতে যাওয়া সম্ভাব্য হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হবে ইরানের সামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত স্থাপনাগুলো। তাঁর ভাষায়, এই হামলার মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানাগুলোকে উল্লেখযোগ্যভাবে অকার্যকর করে দেওয়া হবে।
সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট আরো অভিযোগ করেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিশেষভাবে হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তাঁর মতে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এবং বাণিজ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং সরঞ্জামের অবস্থান সম্পর্কে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে রাশিয়া— এমন খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে এবং সব ধরনের তথ্য বিশ্লেষণ করে সামরিক পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ মার্চ) সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিট হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।
তাঁর ভাষায়, কে কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং কী ধরনের তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে— সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডার-ইন-চিফ ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরোপুরি অবগত রয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে যাই ঘটুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র সেসব ঘটনার কড়া জবাব দিতে প্রস্তুত।

